বিশ্বকাপটা নিজের মত রাঙাতে পারেননি। শুরুর ম্যাচের পর আঘাত হানে ইঞ্জুরি। সেই ইঞ্জুরি থেকে ফেরার আগেই ব্রাজিল ছিটকে যায় বিশ্বকাপ থেকে। সে আক্ষেপ নিশ্চয়ই থাকবে রাফিনহার।
তবে ক্লাবে রাফিনহা নিজের আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন বোধহয় আগেই। গত কয়েক মৌসুম ধরেই বার্সার টপ পারফর্মার তিনি। এই মৌসুমেও সেটাই ধরে রাখার ছিল পালা। শুরুর ম্যাচে পারফর্মেঞ্চের মাধ্যমে এবার তারই ইঙ্গিত দিলেন এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার।
লীগের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ এলচের জালে ৫ গোল বার্সেলোনা দলের। যেখানে ৩ গোলেই অবদান রাখেন ব্রাজিলিয়ান রাফিনহা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে সক্রিয় ছিলেন রাফিনহা। ১৪ মিনিটেই পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে করিম আদেয়েমির গোলের পেছনেও ছিল রাফিনহার অবদান। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন এই ব্রাজিলিয়ান। ৬৭ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট নিয়ে ম্যাচ শেষ করেন রাফিনহা।
ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩ বার চাঞ্চ ক্রিয়েট করেন রাফিনহা, জয় করেন এক পেনাল্টি। অপোজিশন বক্সেও সর্বোচ্চ টাচ থাকে এই ব্রাজিলিয়ান তারকার। ২ বার বিগ চাঞ্চ, ১ বার ক্রস ও ১ বার দেন সঠিক লং বল।
এছাড়া ক্লিয়ারেন্স, রিকভারিসও করেন তিনি। সব মিলিয়েই যেন শুরুর ম্যাচে নিজেকে দারুণভাবে রাঙান রাফা।
রাফিনহার এই পারফরম্যান্সকে শুধু একটি ম্যাচের বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গত মৌসুমেও নানা সময়ে তিনি বার্সেলোনার আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন।
২০২৫-২৬ মৌসুমে চোটের কারণে কিছুটা সময় মাঠের বাইরে থাকলেও ফিরে এসে দ্রুত নিজের ছন্দ খুঁজে নেন। মৌসুমের কিছু ম্যাচ মিস করেও ২১ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করেন রাফিনহা, অর্থাৎ ২৯ গোল রাখেন অবদান।
২০২৪/২৫ মৌসুমে বড় ম্যাচে রাফিনহার পারফরম্যান্সই তাকে আলাদা করে চিনিয়েছে। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হ্যাটট্রিক করে বার্সেলোনাকে ৪-১ ব্যবধানে জিতিয়েছিলেন।
রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে লা লিগার এল ক্লাসিকোতে ১ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট করেছিলেন বার্সার ৪-০ জয়ে। সেই আসরে ৩৪ গোলের সাথে ২৬ এসিস্ট করেন রাফা,মোট ৬০ গোল করে নিজেকে নিয়ে যান অনন্য উচ্চতায়।
সব মিলিয়ে রাফার সামনে নিজেকে ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। কেননা ক্লাবের অর্জন তাকে যেমন আরো উপরে তুলবে, তেমনি ব্রাজিল দলের জন্যও করবে আত্মবিশ্বাসী। আর তাতে আগামী দিনে শিরোপাজয়ে ব্রাজিলও হবে আরো বড় দাবিদার।




