একটা সময় বলা হত বাংলাদেশ স্পিনারদের দেশ। বিশেষ করে কেউ তো মজা করে এটাও বলত, যদি একটা ইটের টুকরো আকাশ থেকে ফেলা হয় এই দেশে, তবে সেটা গিয়ে পড়বে বাহাতি স্পিনারের মাথায়।
কথাটা ভুল নয় মোটেও। সাকিব, রাজ্জাক, রফিক, এনামুল জুনিয়ার, ইলিয়াস সানি সহ এ দেশে সফলতা পাওয়া বাহাতি স্পিনার কম ছিলনা।
এমনকি ডানহাতি স্পিনেও দেশে ছিলনা অপশনের কমতি। অথচ বর্তমানে সেই ফিঙ্গার স্পিনটাই যেন ভুলতে বসেছে বাংলাদেশ দল।
উইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেষ্টে ৩ স্পিনার নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ দল। ঘরের মাঠে নিজেদের শক্তিমত্তা স্পিন, এটাই যেন আত্মবিশ্বাস ছিল বাংলাদেশ দলের।
যে কারণে পেসারকেও ড্রপ করে তারা। কিন্ত সেই স্পিন যেন সম্পুর্ণ বিষহীন। শুরুর ম্যাচেও ফাটল ধরাতে পারেনি উইন্ডিজের ব্যাটিং আক্রমণে, উলটো তাইজুল মিরাজদের সাবলীল ভাষায় খেলেছে উইন্ডিজ দল। দ্বিতীয় ম্যাচে পরিস্থিতি যেন আরো করুণ।
২৭ রানে ৩ উইকেট হারানো উইন্ডিজ শেষ পর্যন্ত দিন শেষ করেছে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে।
যে স্পিনারদের উপর এত ভরসা করেছিল বিসিবি, তারা মিলে শুরুর দিনে বল করে মোট ৪২ ওভার। তবে এই ৪২ অভার বল করে কোন উইকেট তুলতে পারেনি দলের ৩ স্পিনার।
নির্বিষ স্পিন আক্রমণের প্রভাব পড়েছে পুরো ম্যাচেই। শুরুর ৩ উইকেটের পরও উইন্ডিজকে চেপে ধরা যায়নি।
কেননা একজন পেসার নিয়ে কমতি খেলায় শুরুতে আনতে হয়েছিল স্পিনার। আর সেখানেই নিজেদের কাটিয়ে উঠার সুযোগ পায় উইন্ডিজ দল।
পরবর্তীতে পেসার আনা হলেও তখন একদিকে সেট উইন্ডিজের ব্যাটাররা। অপরদিকে ২ পেসারে লম্বা স্পেলে তারাও হয়ে গিয়েছিলেন ক্লান্ত।
ফলে ব্যাটিং ইনিংসটা সাবলীলভাবে নিজেদের দিকেই নিয়ে নেয় উইন্ডিজ দল।
অনেকে তো বাংলাদেশের স্পিনারদের স্পিনার বলতেও চাননা এখন আর। তাইজুল মিরাজদের থ্রোয়ার হিসেবেই আখ্যা তাদের। কেউ কেউ তো বলেন মিডিয়াম পেসার হিসেবেই খেলেন তারা। বলে টার্ন, আর্মার নেই, নেই কার্যকরী ফ্লাইট। উলটো জোড়ে বল করে প্রতিপক্ষকে আরামে খেলার সুযোগটাই দেন এই দুই বোলার।
ঘুরেফিরে তাই এখনও বাংলাদেশের সেরা স্পিনার সাকিব আল হাসানই। ব্যাটিংকে এক পাশে রাখলেও সাকিবের স্পিনের সমান স্পিনার নেই বাংলাদেশ দলের।
সাকিবের আর্মার, পেস ভ্যারিয়েশন ও টার্ন আজও তাই মিস করে বাংলাদেশ দল। শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন স্পিনে এই দুসময় শেষ হবে কবে?
সাকিব আল হাসান মানের খেলোয়াড় না আসুক, তার কাছাকাছি মানের স্পিনারও কি আসবেনা আর বাংলাদেশ দলে?




