“সময় চলে যায়, পুরোনো সৌন্দর্যও একসময় হারিয়ে যায়” আলফ্রেড লর্ড টেনিসন নিজের তিথোনাস কবিতায় যেন এই বিখ্যাত লাইন উল্লেখ করেছেন।
আলফ্রেডের ভাষায় যেন সময়ের সাথে সৌন্দর্য হারাচ্ছেন ফুটবল ভক্তরা। কেন এক যুগের বেশি সময় একসাথে ফুটবলে সৌন্দর্য এনে দেওয়া মেসি নেইমার যে নেই আর আন্তজার্তিক ফুটবলের মঞ্চে।
একজন ব্রাজিলের, অন্যজন আর্জেন্টিনার। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কও ছিল তাদের ঘিরেই।
কে সেরা, কার অর্জন বেশি, কার জাদু বেশি সুন্দর, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই কেটে গেছে অনেকগুলো বছর। অথচ সময়ের পরিক্রমায় সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিচিত দুই মুখকেই এখন আর জাতীয় দলের জার্সিতে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে না।
নভেম্বরের এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিল খেলবে জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে ও কোস্টারিকা।
দুই দলের স্কোয়াডেই নেই নেইমার ও মেসি। আর সেই না থাকাকে ঘিরে নেই কোন বিতর্কও বা কোন ইঞ্জুরি। কেননা দুইজনের যে হয়েছে বিদায়।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও বিদায়ের কথা জানিয়ে দিয়েছেন নেইমার। বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচটাই নেইমারের সেলেসাও জার্সিতে শেষ বলে জানান এই সুপারস্টার। অপরদিকে বিশ্বকাপের পরই আসে মেসির বিদায়ের ডাক।
কিন্ত সেখানে অবশ্য এক ম্যাচ দিয়ে বিদায় জানানো হয় এলএমটেনকে। তবে সবকিছু শেষে দুইজনই যেন অতীত। এবার দুইজনকেই ছাড়াই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফা উইন্ডোর ম্যাচ।
আর্জেন্টিনায় নিকো পাজ, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো কিংবা জুলিয়ান আলভারেজরা দায়িত্ব নেবেন।
ব্রাজিলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া ও এস্তেভাওরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ভক্তরা তাদেরকেই উজ্জাপন করবেন, তাদের ঘিরে বুনিত হবে আগামী দিনের স্বপ্ন। কিন্ত এক প্রজন্মের কাছে তাতে কি মিটবে মেসি- নেইমারের সাধ?
হয়তো ফুটবল চলবে আগের মতোই। নতুন তারকা আসবেন, নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হবে, নতুন ইতিহাস লেখা হবে।
কিন্তু একটা সময় যারা মেসির বাঁ পায়ের জাদু কিংবা নেইমারের সাম্বা ফুটবল দেখে বড় হয়েছেন, তাদের কাছে এই পরিবর্তন মেনে নেওয়া সহজ হবে না। মেসির ফ্রিকিক ড্রিবলিং কিংবা নেইমির রেইনবো ফ্লিক বা ঠান্ডা মাথার কার্ল শট তাদের স্মৃতির পাতায় বারবার আসতে থাকবে।
নতুনরা এলেও কোথাও না কোথাও তারা হারিয়ে খুজবেন এই দুই তারকার স্মৃতিকে।
সময় বদলাবে, ফুটবলের গল্পও বদলাবে। কিন্তু এই দুজনকে ঘিরে তৈরি হওয়া আবেগ কি কখনো পুরোনো হবে? অন্তত মেসি – নেইমার যে লিগ্যাসি করে গিয়েছেন, সেই আবেগ পুরোনো হওয়া কখনই হবেনা সহজ।




