তাওহীদ হৃদয় প্রমাণ করলেন, ভুল থেকে কিভাবে শিক্ষা নিতে হয়গত ম্যাচে একটি বড় শট খেলতে গিয়ে দলকে বিপদে ফেলেছিলেন তাওহীদ হৃদয়।
এতটা সমালোচনায় পড়েছিলেন যে, মনে হয়েছিল একটি শটের কারণে অতীতে কখনো কোনো খেলোয়াড় এতটা সমালোচিত হননি।
কেউ কেউ তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার কথাও বলেছিলেন।কিন্তু সেই তাওহীদ হৃদয় আজ যা খেললেন, তা আপনাকে মনে করিয়ে দেবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে ম্যাক্সওয়েলের সেই ইনিংসের কথা।
মাঠে দলের বিপদে একাই লড়াই করা, ক্র্যাম্পের সাথে যুদ্ধ করা, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে খেলা, কখনো চার হাঁকানো, কখনো ছয় হাঁকানো, কখনো একদম হেলায় শরীরটাকে ভাসিয়ে দেওয়া — কিন্তু ব্যাট হাতে নির্ভর হয়ে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা।ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ১০ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছিল ৩৫৬ রান।
জবাবে সিলেটের সবুজ উইকেটে খুব বেশি কঠিন হওয়ার কথা ছিল না বাংলাদেশের জন্য।
কিন্তু শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিম ১৬ আর নাইম শেখ ৫ রানে ফেরার পর বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়কে খুব বেশি সঙ্গ দিতে পারেননি শান্ত, ১৮ রানে ফেরেন তিনি।সবচেয়ে বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায় ওপেনিংয়ে নামা সাদমান ইসলাম।
এরপর মুশফিকুর রহিম কিছুটা সঙ্গ দেন তাওহীদ হৃদয়কে, করেন ৩৪ রান, কিন্তু হেলায় উইকেট হারিয়েছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।
লিটন দাস আজও করেছেন ৮ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ দলকে বিপদে ফেলেছেন ১৬ রানে। টেলএন্ডার হাসান মাহমুদ ১২ বলে ১ রানের বেশি করতে পারেননি। দল তখন মহাবিপদে।
কিন্তু জাকের আলীকে নিয়ে যা করলেন তাওহীদ হৃদয়, তা ইতিহাসের পাতায় লেখার মতো এক ইনিংস। তাওহীদ হৃদয় খেলেছেন দীর্ঘ সময়, ৫৬ বলে ২২ রান করেছেন জাকের, আর নিজের কাছেই বেশিরভাগ সময় স্ট্রাইকটা ধরে রেখেছেন তাওহীদ হৃদয়।
এমনকি তাসকিন আহমেদকে নিয়েও অনেকক্ষণ ব্যাটিং করেছেন তিনি। নিজেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়েছেন ২০০-এর দিকে।তাওহীদ হৃদয়ের এই ইনিংসটিকে আপনি বাংলাদেশের যেকোনো টেস্ট ইনিংসে এককভাবে সেরা ইনিংস হবে কিনা, সেই তর্ক করতেই পারেন।হয়তো ভুল থেকে শিক্ষা নিলে এভাবেই নিতে হয়।
এভাবেই নিজেকে প্রমাণ করতে হয়। দলের জন্য যে কতটা নিবেদিতপ্রাণ তিনি।




