চলমান এশিয়ান গেমস পুরুষদের ক্রিকেটে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়েছে নেপাল। দলটির ব্যাটারদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রেকর্ড বুক ওলটপালট হয়ে গেছে। এই ম্যাচে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ দলীয় রান, রানের হিসেবে সবচেয়ে বড় জয়, দ্রুততম সেঞ্চুরি ও ফিফটির রেকর্ডও গড়া হয়।
এদিন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম দল হিসেবে নেপাল পার করেছে ৩০০ রানের গণ্ডি। জয়ের ব্যবধানেও গড়েছে রেকর্ড। যেখানে আন্তর্জাতিক এই ফরম্যাটে দলটির দুই ব্যাটার কুশল মাল্লা ও দিপেন্দ্র সিংদ্রুততম সেঞ্চুরি ও ফিফটির পুরাতন রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন।
এদিন, টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামা নেপালের কুশল মাল্লা, রোহিত পড়েল ও দিপেন্দ্র সিংয়ের ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালায়। কুশল মাল্লা শুরু থেকেই মঙ্গোলিয়ার বোলারদের ওপর চড়াও হন। মাত্র ১৯ বলেই মাল্লা তুলে নেন অর্ধশতক। অর্ধশতক থেকে শতকে যাওয়ার পথে আরো আগ্রাসী হন মাল্লা, খেলেন মাত্র ১৫ বল। ৩৪ বলেই শতক হাঁকিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বলে শতক স্পর্শের রেকর্ডটা নিজের করে নিলেন মাল্লা।
আগের রেকর্ডটির মালিক ছিলেন রোহিত শর্মা ও ডেভিড মিলার। ২০১৭ সালে ৩৫ বলে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন রোহিত। একই বছর মিলার ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে।
অধিনায়ক রোহিত পড়েল ২ চার আর ৬ ছক্কায় ২৭ বলে ৬২ রান করেন। পাঁচে নেমে দিপেন্দ্র সিং শুরু থেকেই ছিলেন বিধ্বংসী। মঙ্গোলিয়ার বোলারদের তুলোধুনো করেন তিনি। নিজের খেলা প্রথম ছয় বলেই ছক্কা হাঁকান দিপেন্দ্র সিং। মাত্র ৯ বলেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন দিপেন্দ্র সিং। এ ৯ বলের মধ্যে ৮ বলেই ছক্কা মারেন তিনি।
তিনি ৯ বলে অর্ধশতক হাঁকিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বলের হিসেবে সবচেয়ে দ্রুততম অর্ধশতকের মালিক হন। শেষ পর্যন্ত ১০ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন দিপেন্দ্র। এর আগে এ রেকর্ড ছিল ভারতের যুবরাজ সিংয়ের দখলে। ১৬ বছর ধরে অক্ষুণ্ণ ছিল এ রেকর্ড। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২ বলে ফিফটি করেছিলেন যুবরাজ।
তাদের ব্যাটে ২০ ওভার শেষে নেপালের স্কোর হয় ৩ উইকেটে ৩১৪ রান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিও রেকর্ড। এর আগে কোনো দলের সংগ্রহ ৩০০ অতিক্রম করেনি। ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে করা আফগানিস্তানের ২৭৮ রান ছিল আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
মঙ্গোলিয়া জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৩ ওভার ১ বল টিকে ৪১ রান করেই অলআউট হয়ে যায়। এরমধ্যে ২৩ রান এসেছে অতিরিক্ত খাত থেকে ও ১৮ রান এসেছে মঙ্গোলিয়ার ব্যাটারদের ব্যাট থেকে। নেপালের ২৭৩ রানের ব্যবধানে ম্যাচ জয় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে রানের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় জয়।
তুরস্কের বিপক্ষে চেক প্রজাতন্ত্রের ২৫৭ রানের জয় ছিল রানের হিসেবে সবচেয়ে বড় জয়।




