ধরমশালায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টগবগে আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে নেমেছিল নেদারল্যান্ডস। সামনে ছিল সেই শ্রীলঙ্কা, যারা চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি। তবে ডাচদের বিপক্ষে লখনউয়ে ৫ উইকেটের জয়ে নিজেদের পয়েন্টের খাডা খুললো লংকানরা। আগে ব্যাট করে ২৬২ রান তোলে নেদারল্যান্ডস। জবাবে ৫ উইকেট হাতে রেখে সহজ জয় পায় শ্রীলঙ্কা।
২৬৩ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে পঞ্চম ওভারে ওপেনার কুশল পেরেরার উইকেট তুলে নেন আর্য। পাওয়ারপ্লের মধ্যে শ্রীলঙ্কাকে ফের দ্বিতীয় ধাক্কা দেন আর্য। ক্যাপ্টেন কুশল মেন্ডিস ফেরেন ১১ রানে। ওপেনিং জুটির পর দ্বিতীয় উইকেট জমাট হয়নি। এরপর তৃতীয় উইকেটে সাদিরা সমরবিক্রমা এবং পাথুম নিশঙ্কা জুটিতে ৫২ রান তোলেন। ৫৪ রান করে আউট হন নিশঙ্কা। দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পড়ে সাদিরা ও চরিথ আসালঙ্কার উপর। চতুর্থ উইকেটে সাদিরা ও আসালঙ্কা জুটিতে তোলেন ৭৭ রান।
আসালঙ্কা ৪৪ রান করে মাঠ ছাড়েন। ধনঞ্জয় ডি সিলভা ৩০ করেন। এ দু’জনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন সাদির। শেষ অবধি ক্রিজে ছিলেন সাদিরা। মাত্র ৯ রানের জন্য তাঁর শতরান হয়নি। সাদিরার ৯১ নট আউট দুরন্ত ইনিংস আজ জেতাল শ্রীলঙ্কাকে। ম্যাচের সেরার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। ১০ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেট হাতে রেখে জয় পায় শ্রীলঙ্কা।
এর আগে লখনৌয়ে টসে হেরে প্রথমেমবয়াট করতে নামা নেদারল্যান্ডসের ওপেনার বিক্রমজিৎ সিংকে চতুর্থ ওভারেই প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখান কাসুন রজিথা। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে খানিকটা এগোয় ডাচরা। কলিন অ্যাকারম্যান ও ম্যাক্স ও’ডড জুটিতে ওঠে ৪১ রান। এরপর ১০ ও ১২তম ওভারে শ্রীলঙ্কার কাসুন রজিথা এক এক করে তুলে নেন ম্যাক্স ও’ডড (১৬) এবং কলিন অ্যাকারম্যানের (২৯) উইকেট। ওই যে বলে এক যায়, এক আসে… তেমনই একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে নেদারল্যান্ডস। দেখতে দেখতে দলগত ৯১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে নেদারল্যান্ডস। এরপর ম্যাচের হাল ধরেন সিব্র্যান্ড এঞ্জেলব্রেট এবং লোগান ভ্যান বিক।
সপ্তম উইকেটে জুটিতে সিব্র্যান্ড এঞ্জেলব্রেট এবং লোগান ভ্যান বিক তোলেন ১৩০ রান। এই জুটি বিশ্বকাপে সপ্তম উইকেটে সবচেয়ে বেশি রান করা ক্রিকেটারদের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে সপ্তম উইকেটে সবচেয়ে বেশি রান করেছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রবীন্দ্র জাডেজা। তাঁরা সপ্তম উইকেটে ১১৬ রান করেছিলেন। আজ, সিব্র্যান্ড-লোগান সপ্তম উইকেটে ১৩০ তুলে ধোনি-জাড্ডুর রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। ৭০ রান করেন সিব্র্যান্ড এবং লোগান করেন ৫৯ রান।
লংকানদের হয়ে ৪টি করে উইকেট নেন দিলশান মধুশঙ্কা এবং কাসুন রজিথা। শেষ অবধি ২৬২ রান তুলে অলআউট হয় ডাচরা।




