আবারো হুড়মুড়িয়ে পড়ল বাংলাদেশের টপ অর্ডার। বড় রানের জবাবে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে শুরু করে বাংলাদেশ। তবে শেষের দিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের লড়াকু শতরানে ২৩৩ এ থামে টাইগারদের ইনিংস। এর আগে ডি ককের সেঞ্চুরি ও ক্লাসেনের ঝরো ৯০ রানে বর করে ৩৮৩ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড় করায় আফ্রিকা। সবমিলিয়ে ১৪৯ রানের বড় ব্যবধানে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেডে স্টেডিয়ামে ৩৮৩ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে ৩০ রান আসলেও এরপরে মুড়ি-মুড়কির মতো উইকেট হারাতে থাকে টাইগাররা। দলীয় ৩০ রানে জেনসেনর বলে কট বিহাইন্ড হন তামিম(১২)।তিনে নেমে নিজের খেলা প্রথম বলেই আউট হন শান্ত। তিনিও জেনসেনের শিকার হন। ব্যাট হাতে সম্প্রতি অফফর্মে থাকা সাকিব ব্যর্থ এদিনও। উইলিয়ামসের প্রথম শিকার হয়ে ফিরেছেন মাত্র ১ রানে। দলীয় ৪২ রানে ফেরেন মুশফিক(৮)। ব্যক্তিগত ২২ আর দলীয় ৫৮ রানে রাবাদার বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন লিটন। এরপর উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রেখে হাল ধরেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে অন্য প্রান্তে ব্যাটাররা আউট হন নিয়মিত বিরতিতে। দলীয় ৮১ রানে ফেরেন মিরাজ(১১)। রিয়াদের সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়ার পর কোয়েটজের বলে কট এন্ড বোল্ড হন নাসুম(১৯)। এরপর মোস্তাফিজকে নিয়ে ৬৮ রানের জোট গড়েন রিয়াদ। যেখানে অধিকাংশ রানই আসে রিয়াদের ব্যাট থেকে। ১০৪ বলে রিয়াদ তার শতরান পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ১১চার আর ৪ ছয়ে ১১১ বলে ১১১ রানে আউট হন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। রিয়াদ আউট হওয়ার পর দ্রুতই অলআউট হয় বাংলাদেশ। ৪৬.৪ ওভারে ২৩৩ রানে থামে টাইগারদের ইনিংস।
প্রোটিয়াদের হশে কোয়েটজে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট লাভ করেন।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকাকে শুরুতে কিছুটা চাপে রাখে বাংলাদেশের বোলাররা। পাওয়ারপ্লেতেই তুলে নেয় দুই উইকেট। দলীয় ৩৩ রানে রেজা হেনড্রিক্সকে বোল্ড করেন শরিফুল। তার পরের ওভারেই মিরাজের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন ভ্যান ডার ডুসেন। তবে এরপর সময়ের সাথে সাথে ভয়ংকর হতে থাকে ডি কক আর এইডেন মার্করাম। দুজনের ব্যাটে আসে ১৩১ রানের জুটি। ব্যক্তিগত ৬০ রানে সাকিবের শিকার হন মার্করাম। তবে অন্যপ্রান্তে থাকা ডি কক খেলতে থাকেন ভয়ংকর রূপে। ১৫ চার আর ৭ ছয়ে ১৪০ বলে ১৭৪ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে হাসান মাহমুদের বলে আউট হন তিনি। ডি ককের মতো হেনরি ক্লাসেনও টাইগার বোলারদের ছাতুপেটা করেন। মাত্র ৪৯ বলে করেন ৯০ রান। শেষের দিকে ডেভিড মিলারও ছোটোখাটো একটা সাইক্লোন বইয়ে দেন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে। ২২৬ স্ট্রাইকরেটে একটি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ১৫ বলে করেন ৩৪ রান। সবমিলিয়ে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ দাঁড়ায় পাহাড়সম ৩৮২ রান।
টাইগারদের হয়ে হাসান মাহমুদ দুটি উইকেট লাভ করেন।




