সালটা ২০২০, তখনো জাতীয় দলে ডাকও পাননি এমিলিয়ানো মার্টিনেজ,সবেমাত্র যোগ দিয়েছেন এস্টন ভিলায়।আর্সেনালে অবহেলিত এই গোলকিপার , যখন ভিলা পার্কে দারুন করলেন,তখন জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন জানালেন।অথচ তখন তার বয়স ইতোমধ্যে ২৮ পেরিয়ে।কিন্তু এমিলিয়ানো বলেননি যে আমি জাতীয় দলে খেলতে চাই,তিনি বলেছিলেন আমি জাতীয় দলে খেলে লিওনেল মেসিকে আন্তর্জাতিক শিরোপা জিততে সাহায্য করতে চাই! আর্জেন্টিনার খারাপ সময়ে দলের বাহিরের এক গোলকিপারের এমন মন্তব্য রিতীমত নেটিজেনদের হাস্যরসের খোরাক হয়।কিন্তু সেই এমিলিয়ানো ২১ সালে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা,২২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছেন।কোপায় ইতোমধ্যে দলকে তুলেছেন সেমিফাইনালে, আর এবার জানালেন কিভাবে তিনি এতো পেনাল্টি ঠেকিয় দেন।
গতকাল ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়ায় মার্টিনেজ বলেন, এতো তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যেতে চাননি তিনি। তাই নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েই দলকে জিতিয়ে এনেছেন তিনি বলেন, ‘’পেনাল্টি শ্যুটআউটের আগে ওদের বলেছি, আমি বাড়ি যেতে প্রস্তুত নই। আমি সমর্থকদের অনুভব করি। আমার পরিবারও কাছেই আছে। এগুলো জীবনের বিশেষ মুহূর্ত। সব মিলিয়েই ব্যাপারটি রোমাঞ্চকর।’’

সাফল্যের রহস্য জানিয়ে মার্টিনেজ আরও বলেন, ‘’আমি এমন কিছুর জন্যই পরিশ্রম করি। প্রতিদিন অনুশীলনে আমি ৫০০ এর মতো শটের মুখোমুখি হই। চেষ্টা করি সব সময়ই ভালো অবস্থানে থাকতে। দেশের মানুষের এটা প্রাপ্য। কারণ তারা টাকা খরচ করে আমাদের খেলা দেখে।’’
২০ সালে মার্টিনেজ বলেছিলেন মেসির জীবন দিয়ে লড়তে চান তিনি, ২১ সালে বলেছিলেন মেসির জন্মদিনের উপহার কোপা আমেরিকার শিরোপা দিবেন তিনি,২২ সালে বলেছিলেন মেসির আক্ষেপ ঘোচাতে বিশ্বকাপের মাঠে প্রান দিতেও রাজি।এমিকে প্রান দিতে হয়নি,তবে নিজের সেরাটা দিয়েই মেসিকে করেছেন সর্বেসর্বা।ফুটবলকে এতোকিছু দেওয়া লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে পুর্নতা দিয়েছেন এই এমিলিয়ানো মার্টিনেজই।
দুরের ঘটনা বাদ,গতকালের কথাই ভাবুন,লিওনেল মেসি পুরো ম্যাচেই অফ ছিলেন,নিজেই প্রথম পেনাল্টি নিতে গেলেন,আর মিস করে বসলেন।যদি কাল দল হেরে বিদায় নিতো,নিজের ক্যারিয়ারের এতো ভালো সময়ের পরেও খুব খারাপ বিদায়ই হয়তো নিতেন মেসি।কিন্তু সেখান থেকেও দলকে রক্ষা করেছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।পেনাল্টি ঠেকাতে তিনি এতোটাই পারদর্শী যে সর্বশেষ ২৮ টি পেনাল্টিতে ১৪ টিই ঠেকিয়ে দিয়েছেন তিনি।এবং পেনাল্টি সেভে এমিকে সর্বকালের সেরা বলতেও দ্বিধা করছেন না কেও।তবে এমি বললেন সবকিছুই কষ্টের ফল,দিনে ৫০০ শটের মুখোমুখি হওয়াতো আর চাট্টিখানি কথা না!




