ডারউইনে তৃতীয় দিন শেষেই ধারণা ছিল, স্পিনাররা পেতে পারেন সহযোগীতা। দিন যত যাচ্ছিল, বাউন্স তত কম হচ্ছিল।
সেই বাউন্সের সাথে খাবি খেয়েই আউট হচ্ছিলেন একের পর এই অষ্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান। তবে সেখান থেকে খুটি গড়েন ক্যারি ও গ্রিন।
চতুর্থ দিনে এই দুইজনের ব্যাটে ভর করে প্রতিরোধের স্বপ্ন দেখে অষ্ট্রেলিয়া।
সেই স্বপ্ন ফেরাতে বেশিক্ষণ লাগেনি মিরাজের। দিনের শুরুর ২০ মিনিটের মাঝেই ফাদে ফেলেন এলেক্স ক্যারিকে। মিরাজের করা অফস্পিনে ডিফেন্স করতে গিয়ে পরাস্ত এলেক্স ক্যারি। সেখানে ক্যাচ দিয়ে দেন উইকেটরক্ষক লিটন দাসকে।
এর আগে দুইবার এজ হয়েও রক্ষা পান ক্যারি, তবে শেষ আঘাত তাকে করেন মিরাজ।
চতুর্থ দিন মিরাজের যাত্রা শুরু সেখান থেকে। এরপর সাতে নামা ওয়েবস্টার মাত্র ৫ রান করেই ফিরে যান মিরাজের বলে।
সে উইকেটে নিজের কব্জির জাদু দেখান মেহেদী হাসান মিরাজ। দারুণ এক স্লাইডার করেন, আর সেটাই বুঝতে পারেননি ওয়েবস্টার। ফলে তাকে পরাস্ত করে বল আঘাত হাতে অফস্টাম্পে, অষ্ট্রেলিয়ার ঘটে ষষ্ঠ উইকেটের পতন।
লাঞ্চে যাওয়ার আগে আরো এক উইকেট আদায় বাংলাদেশের, আবারো দৃশ্যপটে মিরাজ। এবার অধিনায়ক কামিন্স টিকতে পারলেন না মিরাজের সামনে।
এর আগে মিরাজের একের পর এক বলে ভুগেছেন কামিন্স, তৈরি হয়েছিল সুযোগ। সেখান থেকেই একসময় ভেঙে যায় তার ডিফেন্স দুর্গ।
অফস্টাম্পে আসা বলে টার্ন করে বল কামিন্সের ব্যাট ঘেষে যায় গালিতে থাকা সাদমানের কাছে। সহজ ক্যাচে অজিদের পরাজয়ের ভিতটা গড়ে দেন সাদমান।
এরপর তাসকিন ও হাসানের আঘাতে ৯ উইকেট হারায় অজিরা। কিন্ত কাজটা তখনও বাকি। লিড বড় হলে সেটা বাংলাদেশের জন্য হতে পারত অস্বস্তির কারণ। তবে নাথান লায়নকে সে কাজটা করতে দেননি মিরাজ।
এই অলরাউন্ডারের অফস্পিনে সুইপ খেলতে যান লায়ন, সেখানেই লেগ বিফোর হয়ে দেন ধরা। আর সেখানেই অলআউট অষ্ট্রেলিয়া, প্রথমবার অষ্ট্রেলিয়ায় এসে মিরাজ পেলেন ফাইভার।
প্রস্ততি ম্যাচে শতক করে নিজেকে জানান দেন সিরিজের জন্য। এরপর দলের ক্রাইসিস মোমেন্টে ব্যাটিংএ নেমে করেন অর্ধশতক, টেল এন্ডারদের সাথে একের পর এক পার্টনারশিপ করেন৷ শেষ পর্যন্ত সেটাই মনোবল ভেঙে দেয় অজিদের।
তবে তাতে আত্মতৃপ্তিতে ভোগেননি মিরাজ। প্রথম ইনিংসে বল হাতে সুযোগ না পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে মেলে ধরেন পুরোটা।
আরো এক ইতিহাসের গল্পে মিরাজ নিজের নাম লেখান সামনের সারিতেই। শর্টার ফরম্যাটে মিরাজকে নিয়ে যতই প্রশ্ন থাকুক, লঙ্গার ফরম্যাটে তিনি যে বিশ্বমানেরই একজন, সেটারই আরেকবার দিলেন প্রমাণ।




