আপনি তখনই বড় হবেন যখন আপনার শত্রুর মুখেও আপনার প্রশংসা ও শ্রদ্ধা থাকে। লিওনেল মেসির বেলায় ঠিক তেমনই। তার রাইভাল দলের খেলোয়াড়, কোচ, ভক্তরাও অনেক ক্ষেত্রে মেসির চরম ভক্ত। আর এটিই মেসিকে আলাদা করেছে সবার চেয়ে। অনেক ক্ষেত্রে এটিই মেসিকে মেসি করে তুলেছে।
তবে সেটা লিওনেল মেসি নিজে অনুভব করেন কিনা, এমন প্রশ্ন করলেন ব্রাজিলিয়ান সাবেক মিডফিল্ডার কাকা। কাকা নিজেই মেসির বড় ভক্ত। অথচ তার ক্যারিয়ারে কাকা খেলেছেন ব্রাজিল দলে ও রিয়াল মাদ্রিদের মত ক্লাবে। যে দলগুলো মেসির দল আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনার রাইভাল দল। সেখানেও থেকেও মেসির প্রতি মুগ্ধতা কমেনি কাকার। বরং বেড়েছে সাম্প্রতিক এক ঘটনায়।

কোপা আমেরিকার ফাইনালে পুরো ম্যাচ খেলতে পারেননি মেসি। ইঞ্জুরির কারণে দ্বিতীয়ার্থের শুরুতে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। আর এরপরই ড্রেসিংরুমে গিয়ে কান্না করেন মেসি। যেই দৃশ্য হৃদয় ছুয়ে যায় কোটি মেসি ভক্তের। তবে মেসির এই কান্নায় অভিভুত হন কাকা। এতকিছু অর্জনের পরও মেসি যেভাবে দলের জন্য কাদলেন, সেটাই মেসির প্রতি শ্রদ্ধা বাড়িয়ে দিলো কাকার।
কাকা বলেন “ মেসি অবশ্যই তার মাথা উচু রাখবে এবং নিজেকে তার চিনতে হবে। তারা আমাকে বলে যে মেসি আসলে নিজেকে মেসি হিসেবে জানেনা, আমি এর উদাহরণ দেখলাম। তার আটটা ব্যালন ডি অর আছে, বিশ্বকাপ আছে, পাচটি গোল্ডেন শু আছে। সে বিশ্বের সবচেয়ে ডেকোরেটেড ফুটবলার, কি নেই তার অর্জনে। এরপর সে কাদতে ছিল কারণ সে একটি ম্যাচ শেষ করতে পারেননি। কি অসাধারণ মানসিকতা”
কলম্বিয়ার বিপক্ষে মাঠ ত্যাগের পর কান্না করেন মেসি। তার কান্না হৃদয় ছুয়ে যায় সবাই। ফলে আমেরিকার হার্ড রক স্টেডিয়ামে সেদিন মেসির নামে স্লোগান দেন সবাই। যার মধ্যে ছিল আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়া সব দলের দর্শকরা। কাকা আরো বলেন মেসির প্রতি বিপক্ষ দলের ভালোবাসা দেখে। কাকা বলেন “ ভক্তরা যা করেছে তা অবিশ্বাস্য। শুধু যে আর্জেন্টিনার ভক্ত না তা নয়, কলম্বিয়ার ভক্তরাও। তারা দেখতে ছিল মেসি কাদতেছে। এরপর তারা সবাই মেসির নামে চিয়ার্স করতে শুরু করে। এটা অবশ্যই গর্ব করার মত বিষয়। এটাই আসলে মেসি। সে সারা বিশ্বের কাছ থেকে এই সম্মান অর্জন করেছেন”

হার্ড রক স্টেডিয়ামে ঘটনা যেন মেসিকেই তুলে ধরে। মাঠের ফুটবলে মেসি সবার সেরা, তবে মাঠের বাইরেও তার নম্রতা, ভদ্রতা, নিবেদনের দিক থেকেও যে মেসি সবার মন জয় করতে পারেন, সেটাই দেখালেন আরো একবার।




