বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘতম জুলাই মাস,শান্তিপুর্ন আন্দোলন থেকে এক পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ এরপর রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে লক্ষ্যের চেয়ে বড় অর্জন।
আর সেখান থেকেই যে কিছু নাম সবার সামনে এসেছে তাদের মধ্যে একজন আসিফ মাহমুদ।দায়িত্ব পেয়েছেন যুব ও ক্রিড়া বিভাগের উপদেষ্টা হিসেবে।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশে হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দেশের চলমান অস্থিরতার মধ্যে নিরাপত্তা ইস্যু চিন্তা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের। এরই মধ্যে বিশ্বকাপ আয়োজনে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীকে চিঠি দিয়েছে বিসিবি। সংস্থাটির নীতিনির্ধারণী মহলের অধিকাংশ সদস্য না থাকায় নারী বিশ্বকাপ না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে অন্তবর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ‘নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ’ নিয়ে শুনিয়েছেন আশার বাণী।

গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে আসিফ মাহমুদ বলেন, “নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়টি আমার চোখে পড়েছে। আমি এখন থেকেই তৎপরতা শুরু করেছি। আশা করি, এটা বাংলাদেশের বাইরে যাবে না। দেশ গঠনের সময়ে যদি এ রকম কিছু ঘটে, তাহলে সেটা আমাদের ভাবমূর্তির জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে। আমাদের সৌভাগ্য, ইউনূস স্যার আছেন সঙ্গে। আমাদের যেসব বিনির্মাণ করা প্রয়োজন, সচিবের কাছে কিছু কিছু শুনেছি। সেসব সংস্কারের জন্য আমরা রোববারই বসব।”
তিনি আরো বলেন, “আমি সচিবদের সঙ্গে বসব। মন্ত্রণালয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেব। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যার আমাদের নেতৃত্বে আছেন, যিনি নিজেও ক্রীড়াপ্রেমী। তিনি কদিন আগে অলিম্পিকের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। তার সঙ্গে কথা বলে আশা করি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আমাদের দেশেই ঠিকঠাক আয়োজন করতে পারব। এটা আয়োজনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
২৬ বছর বয়সি আসিফ মাহমুদ ১৯৯৮ সালের ১৪ জুলাই কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আকুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।আসিফের বাবার নাম মো. বিল্লাল হোসেন, মা রোকসানা বেগম।
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়েছেন আসিফ, ছিলেন কলেজ বিএনসিসি ইউনিটের প্লাটুন সার্জেন্ট। এই কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। বর্তমানে স্নাতকোত্তর করছেন তিনি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আরেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের মতো আসিফও ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। এরপর ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে রাজনীতি শুরু করেন। সর্বশেষ ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
পরবর্তীতে সংগঠনের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে আসিফের নেতৃত্বে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি পদত্যাগ করে। গত বছরের ৩ অক্টোবর গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তির সূচনার পর তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।আর বর্তমানে তিনি দেশের মন্ত্রী সমতুল্য।




