নেইমার জুনিয়ার ব্রাজিল দলে নেই অনেকদিন ধরে। যদিও শীঘ্রিই মাঠের খেলায় ফিরছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। এটা সত্য নেইমার থাকলে ব্রাজিল দলের নেতা নেইমারই। তবে নেইমারের অবর্তমানে কে ব্রাজিলের নেতা হবেন, কে আক্রমণের দায়িত্ব সামলাবেন তা নিয়ে আছে প্রশ্ন। কেননা নেইমার জুনিয়ার আছেন ক্যারিয়ারের ক্রান্তিলগ্নে। বয়স ও ইঞ্জুরি, কোনটাই সঙ্গ দিচ্ছেনা নেইমিকে। ফলে আগামী দিনে নেইমারের বিকল্প ভাবাটা বেশ জরুরী ব্রাজিলের জন্য।
সেখানে অনেকে নেইমারের বিকল্প মনে করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়ারকে। ক্লাবে ভিনির পারফর্মেঞ্চ ও স্কিল সেদিকে ইঙ্গিত দেয়। এর বাইরে এই বছর ব্যালন ডি অর পাবার দৌড়ে সবচেয়ে কাছাকাছি ভিনিসিয়াস জুনিয়ার। ব্রাজিল দলে লেফট উইঙে তাই নেইমার পরবর্তী বড় তারকা ভিনি হবেন, এটা মনে করেন অনেকে৷ তবে ভিনির ক্লাবের পারফর্মেঞ্চের সাথে বিস্তর ফারাক জাতীয় দলের পারফর্মেঞ্চে। আর সেখানেই তার প্রতি আসে সন্দেহ। একই ভাবে রদ্রিগোর মাঝেও আছে অসাধারণ দক্ষতা। শেষ এক বছরে তিনিই পড়েছেন নাম্বার টেন জার্সি। তবে জাতীয় দলে তিনিও সেভাবে পরিপক্বতার পরিচয় দিতে পারেননি।
আরও পড়ুনঃ- ব্যালন ডি অর জিতবেন লাউতারো, জানালেন মেসি
আর এইসব জায়গায় ব্যাতিক্রম রাফিনহা। ক্লাবে যেমন খেলেন, জাতীয় দলে এসে ঢেলে দেন নিজের পুরোটাই। ব্রাজিলের তরুণদের মধ্যে জাতীয় দলে বেশ সফল রাফিনহা। এর আগে নিজের সামর্থ্যের পুরোটা দিতেন। এই সিজনে যেন নিজেকে আরো শাণিত করেছেন। ফলে রাফিনহা হয়েছেন বর্তমানে ব্রাজিলের ভরসার এক নাম।
সর্বশেষ ম্যাচেও পেরুর বিপক্ষে ২ গোল করেছেন। এর বাইরে যতগুলো ক্রস, চাঞ্চ ক্রিয়েট, লং বল করেছেন, সেটা করতে পারেনি পেরুর পুরো দল। লুইস হেনরিক, ইগর জেসুসরা আলোচনায় এসেছেন বটে, তবে ম্যাচটা পেরু হেরেছে এক রাফিনহার কাছেই। ম্যাচের সেরা পারফর্মার এই ব্রাজিলিয়ানই বটে।
এই সিজনে বার্সেলোনার হয়ে ১১ ম্যাচে করেন ১১ গোল এসিস্ট। ব্রাজিলের হয়ে কোপা আমেরিকার পর করেন ২ গোল। এর আগে কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলের সর্বশেষ গোল এসেছিল তার পা থেকেই। গোল এসিস্টের বাইরে ফ্রি রোলে দারুণ করছেন রাফিনহা। আক্রমণের ধার বাড়াচ্ছেন একদিকে, আরেকদিকে তার হার্ডওয়ার্ক মাঠে অন্যদের উপর চাপ কমিয়ে দিচ্ছে। একই সাথে বার্সা দলের অধিনায়ক তিনি, সেখানেও দেখিয়েছেন দক্ষতা। আগামী দিনে যদি এই পারফর্মেঞ্চ অব্যাহত রাখতে পারেন রাফিনহা, তবে তিনিই যে হবেন ব্রাজিল দলের আক্রমণের নেতা, তাতে নেই কোন সন্দেহ।




