২ মাস আগেও সবকিছু অন্যরকম ছিল সাইফের। সেখান থেকে ২ মাস পর বদলে গেলো সব।
জাতীয় দলের সমীকরণের বাইরে থাকা সাইফ হয়ে গেলেন জাতীয় দলের অপরিহার্য একজন।
একই সাথে বিশ্ব ক্রিকেটেও কাড়লেন নজর।
টি২০ তে এশিয়া কাপে ভালো করেছেন, এরপর আফগান সিরিজেও জ্বলে উঠেছেন। তবে অডিয়াইতে তাকে নিয়ে সন্দেহ ছিল।
যদিও ডিপিএলে পারফর্ম করে দলে এসেছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে ৪০ এর অধিক গড়ে রান করেছেন।
তবে অডিয়াই দলে সেটার ধারাবাহিকতা রাখতে পারেন। যদিও দুই সিরিজেও স্ট্রাগল করেছে ব্যাটসম্যানরা, ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি ছিলও না পিচ।
তবুও সাইফ ভালো করেছেন, কিছু ম্যাচ শুরুও পেয়েছিলেন। তবে সেটা ধরে রাখতে পারেননি। যে কারণে আক্ষেপ ছিল তাকে নিয়ে।
সে আক্ষেপ ঘুচালেন শেষ ম্যাচে। সৌম্যকে নিয়ে ১৭৬ রানের পার্টনারশিপ, আর তাতে ম্যাচ থেকে অনেকটা ছিটকে যায় উইন্ডিজ।
ডাউন দ্যা উইকেটে এসে চার্জ করেছেন, ফ্লিক করেছেন, রিভার্স করেছেন, ইনসাইড আউট করেছেন। সাইফের শটের সৌন্দর্য দর্শকদের মনে লেগেছে, এর বাইরে সাইফ দিয়েছেন দর্শকদের স্বস্তি।
ব্যাটে বলে সাইফের স্কিলের চেয়ে বুদ্ধিমত্তাও দারুণ। চাপের মুহুর্তে নিজের উপর বিশ্বাস রাখেন, যে কারো বিপক্ষে যেকোন সময় নিজেকে মেলে ধরতে পারেন। আর সেটা পারেন বলেই সাইফ আলাদা।
যে কারণে সাইফ হয়ে যান একজন টিম ম্যান। আর এমন টিম ম্যানকেই রত্ন হিসেবে রাখতে চাইবে দল৷
এরপরও যেখানে সম্ভাবনা আছে, সেখানে শঙ্কাও থাকে।
সাইফের মত প্রমিজ তো অনেকেই দেখিয়েছেন। লিটন, সৌম্য, সাব্বির থেকে হালের হৃদয়, সবাইকে নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের। কিন্ত তারা আর রাজা হয়ে উঠতে পারেননি, অনেক ফুল তো ফোটার আগেই ঝড়ে গেছে।
সাইফকে নিয়ে আশার ক্ষেত্রে আশঙ্কাও থাকে। কেননা মিরপুরের যে পিচ, সেখানে খেললে যেন হয়ে যায় প্রতিভার অপচয়।
একবার যদি সেখানে রিদম হারিয়ে ফেলেন সাইফ, তবে আরো একবার আফসোসে পুড়তে হবে দেশের ভক্তদের।
এবার তাই দায়িত্ব বিসিবির উপর। দেশের রত্নকে কি পরিচর্যা করতে পারবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড? আগামী দিনে সাইফের উপর ভর করে কি স্বপ্ন দেখতে পারবে টাইগাররা?




