বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের একই দলে একই মৌসুমে , রাশিদ খান, জস বাটলার, কলিন মুনরোর মত খেলোয়াড়রা।
পরের আসরে একই দলে স্টিভ স্মিথের মত তারকা। যে নামগুলো বিপিএলের কাছে স্বপ্নের নাম, তাদেরই একসাথে করেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস।
তবে শুধু কি এইসব নাম, ডোয়াইন ব্রাভো, মোহম্মদ নবী, মারলন স্যামুয়েলস, সুনীল নারিন, আন্দ্রে রাসেল, মইন আলী, নুয়ান কুলেসেকারা সহ কত বড় বড় নাম যে খেলেছে কুমিল্লার দলে, তার লিস্ট হবে অনেক বড়।
আসরের চারবারের চ্যাম্পিয়ন তারা। একটা সময় বিপিএল মানেই ছিল কুমিল্লার দাপট। তাদের বেঞ্চে বসেই থাকত যারা, তাদেরকে পাওয়া যেন অন্য দলের জন্য দুরহ ব্যাপার। সেই কুমিল্লা দলটা নেই এবারের আসরে। বিপিএলের অন্যতম শক্তিশালী ও সফল ফ্রাঞ্চাইজী নেই শেষ দুই মৌসুম ধরেই।
কুমিল্লাকে সবচেয়ে বেশি টক্কর দিয়েছে ফরচুন বরিশাল। ফরচুন নামেই ২ বারের শিরোপা, একবারের রানারআপ।
আসরের সর্বশেষ ২ আসরে চ্যাম্পিয়ন, এক আসরে চ্যাম্পিয়ন। তামিম, মুশফিক, রিয়াদ, মিরাজ, সাইফুদ্দিন, শান্ত, হৃদয়দের এক ছাতার নিচে এনেছে দলটি।
বিদেশীদের মাঝে খেলেছে মায়ার্স, ফাহিম আশরাফ, নবী, মালান, শাহীন আফ্রিদি, মিলারের মত তারকা।
যেখানে অন্যান্য দলগুলো বিদেশী নিতেই খাবি খেত, সেখানে ভালো মানের বিদেশী সবসময় থাকত বরিশাল দল৷ এমনকি নবী, মালানের মত বিদেশীরা বসে থাকত বেঞ্চে।
অন্য ভালো ফ্রাঞ্চাইজী খেলার প্রস্তাব ফেলে দিয়েও বরিশালের হয়ে খেলতেন অনেকে।
এবার আর্থিক কারণে নেই এই ফ্রাঞ্চাইজীটি। বিপিএলে এমনিতেই ভালো মানের ফ্রাঞ্চাইজী পাওয়া দুরহ ব্যাপার, সেখানে টপ ২ টা ফ্রাঞ্চাইজীকেই পাবেনা এবারের বিপিএল।
এর বাইরে এই দুই দল ভালো খেলোয়াড় ভেড়াতে, প্রফেশনালিজমে, মার্কেটিংএ সবজায়গায় বিপিএলের মান বাড়িয়েছে বহুগুণে। স্বাভাবিকভাবে এই দুই দলের অনুপস্থি আক্ষেপ যেমন বাড়াবে, তেমনি বাড়াবে শঙ্কাও।
যে কোন ক্রিকেট ভক্তরাই এই দুই দলকেই সমানভাবে মিস করবে। হয়ত বরিশালের মানুষ খুজবে ফরচুনকে, কুমিল্লা না থাকার আফসোস করবে সে অঞ্চলের জনগণ।
তবে ভালো মানের বিপিএলের জন্য এই দুই ফ্রাঞ্চাইজীর থাকাই যে গুরুত্বপূর্ণ, সেটা স্বীকার করবে দেশের সব ক্রিকেট ভক্ত।
এই বিপিএলে যদি এদের অভাব কেউ পুরণ করতে না পারে, তবে এবারের বিপিএলের মান নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে আরো অনেক বেশি।




