নানান আয়োজনে সকালটাই রঙিন ছিলো মুশিকে ঘিরে।
আর বিকেলটাও চাইলে তিনি রাঙাতে পারতেন শতক দিয়ে,তবে তিনি করলেন রবী ঠাকুরের ছোট গল্পের ন্যায়, যা শেষ হইয়াও হইলোনা শেষ!
তাই শেষ দুটি ওভারে কোন বাজে শট নয়, সিঙ্গেল নিয়ে চলে গেলেন সেঞ্চুরির কাছে।তখনও চিন্তা ছিল মুশফিকের সেঞ্চুরিটা আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথমদিনই হবে। দিনের আলো তখনও ছিল কিন্তু ওভার চালানোর সময় ছিল না।
তবুও দিনের শেষ ওভার পর দুই আম্পায়ার কি যেন একটু আলাপ করলেন। তাদের দিকে তাকিয়ে মুশফিকও অপেক্ষা করলেন।
আর একটি ওভার হলেই তো এদিনেই সেঞ্চুরিটা হয়ে যাচ্ছে!
কিন্তু না আম্পায়াররা স্ট্যাম্পের বেলে আঙ্গুল ছোঁয়ালেন, বেলে লাল আলো জ্বলে উঠলো। দিনের খেলা শেষ, মুশফিক অপরাজিত ৯৯ রানে।
এমন দিনে মুশফিকের ব্যাটেই দিন শেষে ৪ উইকেটে ২৯২ রান তুলেছে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে একশ রানের আগেই তিন উইকেট পড়লে মুশফিক ও মুমিনুল মিলে বড় জুটি গড়েন। তাতে ১০৭ রান যোগ হয় দলের স্কোরে।
মুমিনুল হক ১২৮ বলে ১ চারে ৬৩ রান করে ফিরলে ভাঙে জুটি। এর আগে মাহমুদুল হাসান জয় ৩৪ ও সাদমান ইসলাম ৩৫ রান করেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ৮ রানে দ্রুত ফিরলে লিটনের সঙ্গে আবার বড় জুটি গড়েন মুশফিক।
শেষ পর্যন্ত লিটন দাস ৮৬ বলে ৪৭ ও মুশফিক ১৮৭ বলে ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। দুজনের জুটি ৯০ রানের।
আর দিন শেষে ১ রানের রোমাঞ্চ। এ যেন কোন সিনেমার গল্প। শততম টেস্টে ৯৯ রানে নটআউট থেকে হোটেলে ফিরলেন মুশফিক, কাল সকালে একটি সিঙ্গেল শততম টেস্টে তার সেঞ্চুরির কীর্তি পূরণ করবে।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বাকি ১১জন ক্রিকেটারের মতো মুশফিকের সেই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পথে। কীর্তিমানদের ক্লাবে পা রাখার দিনে নিজেকে আরও একটু উজ্জ্বল করে নিয়ে যেতে চলেছেন বাংলাদেশ ব্যাটার।
শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন আরও ১১জন। ১৯৬৮ সালে প্রথম ইংল্যান্ডের কলিন কাউড্রি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০৪ রান করেন।
এরপর ভারতের সঙ্গে জাভেদ মিঁয়াদাদের ১৪৫, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গর্ডন গ্রিনিজের ১৪৯, উইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের অ্যালেক স্টুয়ার্টের ১০৫, ভারতের বিপক্ষে ইনজামাম উল হকের ১৮৪, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০৬ সালে রিকি পন্টিংয়ের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রায়েম স্মিথের ১৪৩, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হাশিম আমলার ১৩৪, ভারতের বিপক্ষে জো রুটের ২১৮ আর সবশেষ ডেভিড ওয়ার্নারের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০।
এই ১১জন ব্যাটারের পর ছোট লিস্টে যুক্ত হতে পারেন মুশফিক।
মিরপুরে নিজের পরিচিত মাঠে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে তিনি।
শততম টেস্টে সাড়ে ৬ হাজার টেস্ট রানের দিকে এগোচ্ছেন মুশি। এই মাঠেই আছে তার তিনটি দ্বিশতকের দুটি।
আর এই মাঠে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৯৫৪ রান আছে মুশফিকের। তার ক্যারিয়ারে এক মাঠে সর্বোচ্চ। ১৩ সেঞ্চুরির পঞ্চমটিও মিরপুরে হতে যাচ্ছে।




