আজ রাত পোহালেই আগামীকাল ক্রিকেটের দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার এশেজ শুরু। ‘এশ’ যার অর্থ ছাই।
আর সেই ছাই থেকেই ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সিরিজ অ্যাশেজ,এই নামটির পেছনে রয়েছে ১৪৩ বছরের পুরোনো এক গল্প।
১৮৮২ সালে দ্য ওভালে নিজেদের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে প্রথমবার হারার পর ইংলিশ সংবাদমাধ্যম The Sporting Times মজা করে লিখেছিল,
“English cricket has died… and the ashes will be taken to Australia.”
পরবর্তীতে ইংল্যান্ড যখন অস্ট্রেলিয়ায় যায় বলা হচ্ছিলো ছাই ফেরত আনতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড!
তার পর থেকেই ইংল্যান্ড,অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট লড়াই পরিচিত হয় Ashes সিরিজ নামে, আর সেই ‘ছাই’ আজ ইতিহাসের প্রতীক।
এবার সেই ঐতিহ্যশালী সিরিজের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার পার্থ স্টেডিয়ামে, যেখানে প্রথম টেস্টকে ঘিরে ইতোমধ্যে টিকিট পর্যন্ত বিক্রি শেষ। স্টেডিয়ামের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বিদ্যুতায়িত; কয়েকদিন আগেই এখানে মেটালিকার কনসার্টে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছিল, তা যেন এবার ক্রিকেট উন্মাদনায় রূপ নেবে।
২০২৫-২৬ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজ নিয়ে ইংল্যান্ড শিবিরে বিরাট উত্তেজনা। প্রথমবারের মতো জোফরা আর্চার এবং মার্ক উড একসঙ্গে প্রথম টেস্টে একাদশে সুযোগ পেতে যাচ্ছেন,যা দলটির জন্য এক ‘পারফেক্ট স্টর্ম’।
গত তিন বছরে বেন স্টোকস ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বে বদলে গেছে ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের চেহারা। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, সাহসী কৌশল এবং ধারালো বোলিংয়ে তারা এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আধিপত্য স্থাপনের স্বপ্ন দেখছে।
ম্যাককালাম এই সিরিজকে বর্ণনা করে বলেন,“আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সিরিজ।”
চার বছর আগে ৪-০ ব্যবধানে হারের ক্ষত ভুলে ইংল্যান্ড এবার চায় প্রতিশোধের পূর্ণ সুযোগ নিতে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া নিজের মাঠে আগের মতোই ভয়ংকর। অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বে মাঠে নামবে তারা।
মিচেল স্টার্ক ও নাথান লায়নের মতো অভিজ্ঞ ম্যাচউইনারদের সাথে প্রথমবারের মতো অভিষেক হচ্ছে ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড এবং ফাস্ট বোলার ব্রেনডান ডগেটের।
তবে পরিসংখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পক্ষেই,শেষ ১৫টি হোম অ্যাশেজ টেস্টে তারা জিতেছে ১৩টি, বাকি ২টি ড্র।
সব মিলিয়ে, ভক্তদের প্রতীক্ষার প্রহর শেষ। কাল থেকে শুরু হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে আবেগময় ও সবচেয়ে ঐতিহাসিক লড়াই অ্যাশেজ।সকাল সাড়ে আটটায় মাঠে গড়াবে ম্যাচটি।




