ক্যামেরুন গ্রিনকে নিয়ে কাড়াকাড়িটা প্রত্যাশিতই ছিল। মাথিশা পাথিরানার দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে তিনিও ছিলেন চাহিদার শীর্ষে।
কিন্ত এরপর সর্বোচ্চ দামে থাকা খেলোয়াড় অবাক করেছে সবাইকে৷ কার্তিক শর্মা ও প্রসান্ত ভীর, নিলামের আগে যাদের নামই শুনেননি অনেকে।
ভারতীয় দলেও কখনও খেলেনি আগে। তারাই বিক্রি হয়েছে মোট ৩৮ কোটি টাকায়। তাদের কিনে নিয়েছে একই ফ্রাঞ্চাইজী, ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস।
নিলামে ৩০ লাখ রুপিতে শুরু হওয়া কার্তিক শর্মার বিড। কলকাতা ও লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস লড়াই করে বিডের শুরুতে।
এরপর ৫ কোটি ভারতীয় রুপির পর বিড ছেড়ে দেয় লক্ষ্ণৌ। এরপর বিড চলে কলকাতা ও চেন্নাই এর মাঝে। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় টাকায় ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকায় কার্তিককে পায় চেন্নাই। যা বাংলাদেশের টাকায় ১৯ কোটি ৯ লাখ টাকা।
একই মুল্যে আরেক আনক্যাপড খেলোয়াড় প্রস্তান্ত ভীরকে কিনে চেন্নাই। যেখানে তাকে নিয়েও কাড়াকাড়ি করতে হয় তাদের।
এই দুই খেলোয়াড়কে কিনতে নিজেদের ৩ ভাগের ২ ভাগ টাকা খরচ করে বসে চেন্নাই ফ্রাঞ্চাইজী।
কিন্ত কেন এই দুইজনকে কিনে চেন্নাই? এক কথায় আগামী দিনে ধোনি ও জাদেজার বিকল্প হিসেবে এই দুইজনকে কিনে তারা।
কার্তিক শর্মা এই মৌসুমে মুস্তাক আলী ট্রফিতে ৫ ম্যাচে ১৬০ স্ট্রাইক রেটে করেন ১৩৩ রান। ১২ ম্যাচের টি২০ ক্যারিয়ারে তার গড় ৩০ এর অধিক, স্ট্রাইক রেট ১৬০। ফার্স্ট ক্লাসেও দারুণ ব্যাটিং করেন। ব্যাট হাতে পাওয়ারফুল স্ট্রোক মেকার।
শুধু ছক্কাই মারতে পারেন না, বড় বড় ছক্কা হাকান যা ভারতীয় ক্রিকেটেই বিরল। এর সাথে উইকেট কিপার হিসেবেও দারুণ। এমন একজনকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিয়েছে চেন্নাই।
অপরদিকে প্রসান্ত ভীরকে বলা হয় আগামীর জাদেজা। জাদেজার মত অলরাউন্ডার তিনি।
এই মৌসুমে মুস্তাক আলী ট্রফিতে ১৭০ স্ট্রাইক ১১০ রান, আবার বল করেছেন মাত্র ৬.৭৩ ইকোনমিতে, নিয়েছেন ৬ ম্যাচে ৯ উইকেট। এর আগে নয়দা সুপার কিংসের হয়ে নজর কাড়েন ইউপি প্রিমিয়ার লীগে।
এই মৌসুমে জাদেজা নেই, আর হয়ত ফিরবেন না চেন্নাই এর ডেরায়। তার বিকল্প হিসেবে দীর্ঘমেয়াদী প্রজেক্টে প্রসান্তকে নেওয়া চেন্নাই এর।
সব মিলিয়ে পরিকল্পনা করেই এই দুইজনকে দলে নিয়েছে সুপার কিংসরা।
এবার সেই পরিকল্পনা মাঠের ক্রিকেটে কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে তারা, সেটাই এবার দেখার বিষয়।




