কয়েক দিন আগেই আইপিএল নিলামে ৯.২ কোটি রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স।
নিলামের আগেও ধারাবাহিক ভালো ছন্দে ছিলেন তিনি, তবে এই দলবদলের পর যেন আত্মবিশ্বাস আরও কয়েক ধাপ বেড়ে গেছে ‘কাটার মাস্টার’-এর।
মাঠে তার প্রতিফলনও মিলছে স্পষ্টভাবে। সাম্প্রতিক ম্যাচে শুরুটা খুব একটা সুখকর না হলেও, মাত্র একটি ওভারেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসে কিছুটা চাপে পড়েন মুস্তাফিজ। একটি চার ও একটি ছক্কা হজম করে সে ওভারে ১৩ রান দেন তিনি।
তবে অভিজ্ঞ এই পেসার জানতেন, ম্যাচ এখনও অনেক বাকি। নিজের পরের স্পেলেই তার জবাব দেন দুর্দান্তভাবে।
ইনিংসের ১৪তম ওভারে দ্বিতীয়বারের মতো আক্রমণে এসে পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দেন মুস্তাফিজ। এই এক ওভারেই মাত্র ৬ রানে তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। অল্পের জন্য হ্যাটট্রিকও হাতছাড়া হয়।
ওভারের প্রথম বলেই জেমস ভিনস চার মারেন। পরের ডেলিভারিটি ছিল ওয়াইড। তবে এরপরই কামব্যাক করেন মুস্তাফিজ।
তার পরের বলে ৩৬ রান করা জায়ান্টস অধিনায়ক জেমস ভিনস শায়ান জাহাঙ্গীরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তৃতীয় বলে এক রান নেন কাইল মায়ার্স।
এরপর টানা দুটি ডেলিভারিতে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও শন ডিকসনকে বোল্ড করে কার্যত ধস নামান প্রতিপক্ষ শিবিরে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেছিলেন ওমরজাই, আর ডিকসন ফিরেছেন রানের খাতা না খুলেই। ওভারের শেষ বলে মার্কা আদাইরও কোনো রান নিতে পারেননি।
১৮তম ওভারে আবার বোলিংয়ে এসে ১১ রান দিলেও শেষ ওভারে মুস্তাফিজ ছিলেন বেশ নিয়ন্ত্রিত।
চূড়ান্ত ওভারে খরচ করেন মাত্র ৪ রান। সব মিলিয়ে ৩.৫ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন তিনি।
মুস্তাফিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ১ বল বাকি থাকতেই ১৫৬ রানে অলআউট হয়ে যায় জায়ান্টস।
এই পারফরম্যান্সের ফলে চলতি আসরে মুস্তাফিজের ধারাবাহিকতাই আরও স্পষ্ট হলো। প্রথম ছয় ম্যাচে তিনি নিয়েছিলেন ১১ উইকেট।
সপ্তম ম্যাচ শেষে তার ঝুলিতে এখন ১৪টি উইকেট। উইকেটশিকারীদের তালিকায় উঠে এসেছেন দ্বিতীয় স্থানে।
তালিকার শীর্ষে রয়েছেন তারই সতীর্থ, আফগান স্পিনার ওয়াকার সালামখিল,৭ ম্যাচে যার উইকেট সংখ্যা ১৫। ফর্মে থাকা মুস্তাফিজের এই উত্থান নিঃসন্দেহে কলকাতার জন্য বড় স্বস্তির খবর।




