বিসিবি ও সরকারের বৈঠকের পর নিজেদের আগের অবস্থানে অনড় আছে বিসিবি।অর্থাৎ কোনোভাবেই ভারতের কাছে মাথানত করবেনা বাংলাদেশ, বিশ্বকাপ খেলবে শ্রীলঙ্কার মাটিতেই।
ক্রিড়া উপদেষ্টা আজ বলেন,
“দেশের মর্যাদার বিনিময়ে আমরা বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে যাব না। আমরা আইসিসি থেকে চিঠি পেয়েছি তা থেকে বুঝেছি যে ভারতে আমাদের ক্রিকেটারদের প্রচণ্ড নিরাপত্তা ইস্যু সৃষ্টি হয়েছে, সেটা তারা অনুধাবন করতে পারেনি। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, এটা জাতীয় অবমাননা ইস্যু। যা-ই হোক আমরা এখানে নিরাপত্তা ইস্যুটাকেই মুখ্য হিসেবে দেখছি।”
এদিকে বিসিবি বল বলেছেন,
“অতীতে নিরাপত্তাজনিত কারণে পাকিস্তানে যায়নি ভারত, আবার পাকিস্তানও একাধিক বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে আসেনি। ‘নিরাপত্তা ইস্যুতে যদি বিশ্বকাপ নিয়েও আপস করতে হয়, তবে বাংলাদেশ তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে। আমরা একটি গ্রহণযোগ্য ও সঠিক সমাধানের আশা করছি।”
বুধবার সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বুলবুল জানান, ‘আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব
খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে এর বাইরেও সাংবাদিক, স্পন্সর এবং হাজারো সমর্থক থাকেন। বিদেশ সফরের জন্য যেহেতু সরকারি আদেশ প্রয়োজন হয়, তাই আমরা সরকারের দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি না হলে আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়াই করব।’
এছাড়াও ফিজ ইস্যু সামনে এনে তিনি বলেন, ‘যখন মোস্তাফিজের মতো একজন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং তাকে বাদ দিতে হয়, তখন পুরো বাংলাদেশের সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াটা স্বাভাবিক। এটি অত্যন্ত যৌক্তিক প্রশ্ন।’
অন্য দেশগুলো অংশ নিলেও বাংলাদেশের আপত্তি টিকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিবি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা বাস্তব ও যৌক্তিক বিষয় নিয়েই কথা বলছি। অতীতে বহু বিশ্বকাপে খেলেছি, কিন্তু কখনো এমন নিরাপত্তা প্রশ্ন তুলতে হয়নি,’ বলেন বুলবুল।
এ পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্বকাপ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। ইতোমধ্যেই জাতীয় দলের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে এবং চলমান বিপিএলের অন্যতম লক্ষ্য হলো দলকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আরও প্রস্তুত করা। ‘
একই ইস্যুতে ক্রিড়া উপদেষ্টা ড আসিফ নজরুল বলেন,
“ভারতীয় বোর্ড যেখানে নিজেরাই কলকাতাকে বলছে এই ক্রিকেটারকে বাদ দাও, তাকে নিরাপত্তা দেওয়া যাচ্ছে না। সেখান থেকে তো বোঝাই যায় যে সেখানে খেলার মতো নিরাপত্তা নেই। আমাদের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মর্যাদা এটার প্রশ্নে আমরা আপস করব না।”




