সংবাদ সম্মেলনে যেন বেজায় চটেছেন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ফিজ ইস্যু নিয়ে সরব নজরুল এবার সামগ্রিক বিষয় নিয়ে মুখোমুখি হলেন সাংবাদিকদের। তার কাছেই এসেছে আইসিসি থেকে বার্তা।
তবে আইসিসির শর্তকে উদ্ভট ও অবাস্তব বললেন এই উপদেষ্টা। একই মন্তব্য দেশের ক্রিয়াপ্রেমীদের। অনেকে তো এক ধাপ উপরে আইসিসিকে জোকার বলেও সম্ভোধন করেছে।
আর সেটা করবেনা কেন, উদ্ভট ৩ শর্ত আইসিসির। যেখানে শুরুতে তারা উল্লেখ করে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তন করলেও নেওয়া হবে ভারতের অন্য শহরে।
সেখানে কলকাতার বদলে চেন্নাই ও কর্নকাটে বাংলাদেশকে খেলতে বলেছে আইসিসি। অথচ পুরো ভারতেই বাংলাদেশ যাওয়ার জন্য অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
আলাদাভাবে কলকাতার সাথে সমস্যার কথা উল্লেখ করেনি কোথাও। সেখানে ভেন্যু সরানো হলেও ভারতে রাখা কেমন সমাধানের পথ সেটা অনেকের বোধগম্য ছিল না।
এর সাথে আবার ৩ শর্ত দিয়েছে তারা। আইসিসি জানায় ৩ কারণে নাকি বাড়তে পারে নিরাপত্তা ঝুকি।
সেখানে ভারতের উগ্রবাদীতাকে বলা হয়নি একবারও। অথচ বলা হয়েছে ফিজকে ছাড়া নাকি বিশ্বকাপ খেলতে যেতে হবে বাংলাদেশকে। কেননা ফিজ গেলে বাংলাদেশের বাড়বে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুকি।
অথচ এই ফিজকে দল থেকে বাদ দিতে উগ্রবাদীতা করেছে ভারতের সমর্থকরা। তাকে বাদ দিয়েছে ভারতের ফ্রাঞ্চাইজী।
যার জবাবেও কোন প্রতিক্রিয়া দেখাননি ফিজ। ক্রিকেটবিশ্বেও তার মত ভালো চরিত্রের খেলোয়াড় বিরল। আবার ফিজ বাংলাদেশের ফর্মে থাকা সেরা প্রাইম বোলার। তাকে ছাড়াও বা কেন বিশ্বকাপে যাবে বাংলাদেশ।
এরপর বলা হলো বাংলাদেশের ভক্তরা বাংলাদেশের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে যাওয়া যাবেনা। তাতে থাকবে নিরাপত্তা শঙ্কা।
অথচ এখানেই স্পষ্ট হয় ভারতের মাঠে বাংলাদেশের সমর্থক বা সাংবাদিক কেউ নিরাপদ নয়। এমনকি বাংলাদেশের জার্সির কাউকে দেখলে তারা হতে পারে ভয়ঙ্কর। সেখানে উলটো ভারতীয় সমর্থকদের ব্যান করার বদলে রায় দেওয়া হয় বাংলাদেশের বিপক্ষে।
তৃতীয় শর্ত আরো উদ্ভট। বাংলাদেশের নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে পরিস্থিতি হবে নাকি আরো জটিল।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বহুল আকাঙ্খিত এই নির্বাচন। অনেকদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় জনগণ।
সেই ভোটাধিকারকে পিছাতে হবে বা বন্ধ করতে হবে ভারতের আগ্রাসী আচরণের জন্য। এ কেমন উদ্ভট নিয়ম আইসিসির।
আইসিসির এই শর্ত যেন তাদের মেরুদণ্ডহীনতার প্রমাণ করে। এরকম সিদ্ধান্ত নিতে থাকলে প্রমাণ হয়ে যায় আইসিসি কারো দ্বারা কুক্ষীগত হয়ে আছে, যা ক্রিকেটের বিকাশের জন্যই বেশ ক্ষতিকর।
আর এমন সিদ্ধান্ত যে বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করবে, তা তো অনুমেয়ই। এবার দেখা যাক, বাংলাদেশের দাবির মুখে চুড়ান্তভাবে কি করে আইসিসি।




