আপনাকে যদি জিজ্ঞাস করা হয়, বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অর্জন কোনটি। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন ১৯৯৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়।
যে আসরের পর বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ, এরপর টাইগারদের আর পিছনে ফেলে থাকাতে হয়নি
সেই আসরের সেমিফাইনালে ৭০ রানের ইনিংস খেলেন খালেদ মাসুদ পাইলট।
দলের বিপদে তার ৯৪ বলে ৭০ রান দলের জয় এনে দেয়। এরপর ফাইনালে ৭ বলে ১৫ রানের ক্যামিও আসে পাইলটের ব্যাট থেকে, এমনকি শেষদিকে ছক্কাটাও আসে তার ব্যাট থেকে। খালেদ মাসুদ পাইলট যে পথ দেখিয়ে দিছেন, সেটার হাত ধরেই এগিয়েছে বাংলাদেশ দল।
খালেদ মাসুদ পাইলট, একটা নাম যেটা শুনলেই বাংলাদেশের প্রাক্তন ক্রিকেটপ্রেমীর মনে ভেসে ওঠে দীর্ঘস্থায়ী বিশ্বস্ততা, লড়াকু মনোবল ও দায়িত্বজ্ঞান।
১৯৭৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে জন্ম নেওয়া এই অধিনায়ক আর উইকেটকিপার‑ব্যাটসম্যান জাতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ১৯৯৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত।
এই সময়ে টেষ্ট ক্রিকেটে ৪৪ ম্যাচে ১৪০৯ রান করেছেন খালেদ মাসুদ পাইলট। ১ সেঞ্চুরির সাথে আছে ৩ হাফ সেঞ্চুরি।
অডিয়াই ক্রিকেটে ১২৬ ম্যাচে ১৮১৮ রান, আছে সাত অর্ধশতক। দেশের হয়ে আন্তজার্তিক ক্রিকেটে ৩ হাজারের অধিক রান করেছেন, দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর বাইরে টেষ্টে উইকেট কিপিংএ নিয়েছেন ৭৮ ক্যাচ, ৯ বার করেছেন স্টাম্পিং।
তার উইন্ডিজের বিপক্ষে ১০৩ রানের ইনিংস যেন আন্তজার্তিক মঞ্চে তার কোয়ালিটি, ধৈর্যের প্রমাণ দেয়। সেই আমলে উইন্ডিজ ছিল এক জায়ান্ট দল।
এর বাইরে ভারতের বিপক্ষে ২০০৪ সালে ৩৯ বলে ৫০ রানের এক এগ্রেসিভ ইনিংস খেলেন পাইলট। যে কারণে বাংলাদেশ প্রায় জিতে যায় ভারতের বিপক্ষে। সেই ইনিংস থেকে প্রেরণা নিয়ে এরপরের ম্যাচেই জয় পায় বাংলাদেশ, হারায় ভারতকে।
আজকের অনেকে খালেদ মাসুদের গড় নিয়ে কথা বলতে পারেন৷ তবে এখনও আন্তজার্তিক মঞ্চে অনেক বাংলাদেশী ব্যাটারের গড় ৩০ এর আশেপাশে, অনেক ট্যালেন্ট খ্যাত ব্যাটসম্যানদের গড় ২০ থেকে ২৫ এর মাঝে।
আর সেখানে খালেদ মাসুদ সে আমলে খেলেছেন বাঘা বাঘা বোলারদের বিপক্ষে। এর বাইরে দলে টিকে থাকতে কখনও নোংরা কিছু করেননি পাইলট।
উলটো ২০০৭ সালে যখন কথা হয় তার বদলে মুশফিক আসবেন দলে, তখন নিজে গিয়ে মুশফিককে ট্রেনিং করিয়েছেন, কিপিং করিয়েছেন। বর্তমানেও আছেন বিসিবির দায়িত্বে। এই পাইলটরা বাংলাদেশের গর্ব, বাংলাদেশের এক প্রজন্মের স্বাক্ষী। পাইলটদের ছোট করাকে যেন ছোট করা হয় দেশের ইতিহাসকেই৷




