ধারাভাষ্য কক্ষে আবিদ হোসেন সামি বলেই উঠলেন, “তাসমান সাগরের পাড় কাপিয়ে এলেন রিশাদ হোসেন। রিশাদ আসলেন, দেখলেন, উইকেটটা নিলেন। “
কথা একটুও বাড়িয়ে বলেননি সামি। বরং এদিন রিশাদের ঘুর্ণিতেই কুপকাত হয় প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা। দুরন্তর বিপক্ষে রিশাদের ৩ উইকেট, আর তাতেই দারুণ শুরু করেও অল্প রানে শেষ হয় আকবরের দলের ইনিংস।
রিশাদ শুরুর উইকেট পান নিজের প্রথম অভারেই। দ্বিতীয় উইকেটে তখন রবিনের সাথে জুটি গড়েন সদ্য অনুর্দ্ধ ১৯ খেলতে আসা আজিজুল তামিম।
দুইজনের ব্যাটে ভালো অবস্থানে ছিল দুরন্ত একাদশ। আর সেখানে শুরুতে রিশাদ ফেরান আজিজুল হক তামিমকে।
নিজের লাইন লেন্থে তামিমকে বেশ ভালোই ভোগাচ্ছিলেন রিশাদ। এক পর্যায়ে রিশাদের পাতা ফাদে সুইপ করতে যান তামিম৷ আর তাতেই সাফল্য পান রিশাদ, তামিম ক্যাচ তুলে দেন লং অনে থাকা শামীমের দিকে।
এরপর চতুর্থ উইকেটে আরিফুল ইসলামকে ফেরান রিশাদ। এবারো রিশাদের ফ্লাইট, ব্যাটসম্যানকে করলেন প্রলুদ্ধ।
কিন্ত প্রলুদ্ধ হয়ে শটটাই ঠিকমত খেলতে পারলেন না আরিফুল, ক্যাচ তুলে দিলেন শেখ মেহেদীর হাতে। অধিনায়ক আকবর আলী নেমে রিশাদের বলে ছক্কা হাকিয়েছিলেন বটে, তবে তিনিও টিকলেন না।
একই লোভে পরে এবার লেন্থ পিছিয়ে দেন বাংলার এই লেগী, আর তাতেই ধরা পড়েন আকবর। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের হাতেই ফিরেন ক্যাচ দিয়ে।
সব মিলিয়ে মিড অভার্স ও ডেথে বল করেও রিশাদ দেন ৪ অভারে ২১ রান। শুরুর দিকে তাকে চার্জ করার চেষ্টা করে উইকেট হারান ব্যাটসম্যানরা। শেষের দিকে সাকলাইন তাকে কোনরকম পার করার চেষ্টাটাই করেন।
কিছুদিন আগে বিগ ব্যাশ থেকে আসেন রিশাদ। চ্যাম্পিয়ন না হলেও খেলেন এই আসরের সেমিফাইনাল। ১১ ম্যাচ খেলে এই লেগ স্পিনার সেখানে নেন ১৫ উইকেট, রান দেন ৮ এর কম ইকোনমিতে। ২ বার নেন ৩ উইকেট। স্মিথ, ফ্রেজার ম্যাকগার্ক, লাবুশানে সহ বড় বড় তারকাদের উইকেট আদায় করেন এই তরুণ। সেই ধারায় এবার বাংলাদেশে এসেও সাফল্য রিশাদের।
বিশ্বকাপ খেলা হয়নি বাংলাদেশের, খেলা হলে রিশাদ নিশ্চিতভাবে থাকতেন সেই দলে।
আর সেখানে দলের ট্রাম্প কার্ডও পারতেন হতে। যেভাবে ফর্মে আছেন, তাকে খেলতে বেগ পেতেই হত দলগুলোকে।
এর আগেও আইসিসির আসরে নিজেকে প্রমাণ করার কাজটা করেন বাংলার এই লেগী। হয়ত এবার হননি, তবে আগামী দিনে রিশাদকেই ভাবা হচ্ছে দেশের ক্রিকেটের আইকন। রিশাদের হাত ধরে আসুক সাফল্য, লেগ স্পিনেও বাংলাদেশে আসুক বিপ্লব এটাই চাওয়া ভক্তদের।




