চলমান ইস্যুতে ভেসে এলো আরো এক নতুন গুঞ্জন।
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও কাতার,এই তিন দেশ মিলে বিশ্ব ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল এর বিকল্প হিসেবে একটি নতুন ক্রিকেট সংস্থা গঠনের পরিকল্পনা করছে তারা।
প্রস্তাবিত এই কাউন্সিলে বর্তমান কয়েকটি ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ ছাড়াও নতুন কিছু দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই,আইসিসির একক প্রভাব ভেঙে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন শক্তির উত্থান ঘটানো।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে খুব শিগগিরই একটি নতুন টি-টোয়েন্টি লিগ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
জানা গেছে, এই লিগে ক্রিকেটারদের জন্য রাখা হবে অত্যন্ত উচ্চ পারিশ্রমিক। আয়োজকদের ধারণা, এত বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক দেওয়া গেলে খেলোয়াড়দের আর আইপিএল বা অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার প্রয়োজন পড়বে না। ফলে নতুন লিগটি অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেটে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা ভারত ও আইসিসির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ প্রকাশ্যেই আইসিসির সমালোচনা করেছেন। তার মতে, আইসিসি এখন নিরপেক্ষ কোনো সংস্থা নয়; বরং এটি একটি নির্দিষ্ট দেশের রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাবের কাছে জিম্মি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটের স্পিরিট বাঁচিয়ে রাখতে হলে একটি নতুন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার প্রয়োজন। দক্ষিণ এশিয়ায় আইসিসি কার্যত ভারতীয় রাজনৈতিক স্বার্থের অধীনে চলে গেছে।’
আইসিসির সঙ্গে পাকিস্তানের বিরোধ আরও তীব্র হয় সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তের পর। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ ভারতে তাদের ম্যাচ আয়োজন না করার অনুরোধ জানালে আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে। এই সিদ্ধান্তে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানায় পাকিস্তান, যা দুই পক্ষের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের আর্থিক প্রভাব যে অত্যন্ত শক্তিশালী, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ক্রিকেটের বৈশ্বিক বাণিজ্যিক আয়ের বড় অংশই আসে ভারত থেকে, বিশেষ করে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ । ডেইলি মিরর অনলাইনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত আইপিএল থেকে প্রায় ১.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আইসিসির মোট আয়ের প্রায় ৩৯ শতাংশ।
বর্তমানে আইসিসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জয় শাহ, যিনি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পুত্র। নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারম্যানের নিরপেক্ষ থাকার কথা থাকলেও ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক টানাপোড়েন ক্রিকেট অঙ্গনেও প্রভাব ফেলছে,এমন অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটেই নতুন ক্রিকেট কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগ বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।




