নাজমুল হোসেন শান্ত যেন আজ বৈশাখের রোদকেই শান্তভাবে ঠান্ডা করেছেন। শান্তর জেদের আগুনে রোদের তাপই যেন নস্যি! দল ও দেশের প্রয়োজনে নিজের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়ে ১০৫ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেললেন তিনি, যেখানে ব্যথা আর ক্র্যাম্পও তাকে থামাতে পারেনি।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল যখন সিরিজ জয়ের কঠিন চ্যালেঞ্জে নামল, তখন ম্যাচের শুরুটাই ছিল হতাশাজনক।
দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। ঠিক সেই মুহূর্তেই হাল ধরেন শান্ত। ব্যাট হাতে ধৈর্য, পরিমিত আক্রমণ আর অসাধারণ মনোযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি।
২০২৬ সালে দীর্ঘ সময় ধরে ফিফটির দেখা না পাওয়া শান্ত যেন নিজের সেরা সময়টাই তুলে রাখলেন এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের জন্য।আগের ম্যাচে ফিফটি করা শান্ত আজ ইনিংসের শুরু থেকেই ঝুঁকিহীন ক্রিকেট খেলেছেন।
একদিকে উইকেট আগলে রাখা, অন্যদিকে স্কোরবোর্ড সচল রাখা,এই দুই দায়িত্বই নিখুঁতভাবে পালন করেন তিনি। পুরো ইনিংসে ৪২টি সিঙ্গেল ও ৫টি ডাবল নিয়ে স্ট্রাইক ঘুরিয়েছেন দারুণ দক্ষতায়, আর সুযোগ পেলে মেরেছেন বাউন্ডারি। তার ব্যাট থেকে এসেছে ৯টি চার ও ২টি ছক্কা।

চট্টগ্রামের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ব্যাটিং করা ছিল ভীষণ কষ্টকর। প্রায় ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যে কয়েকবার ক্র্যাম্পে পড়েও মাঠ ছাড়েননি শান্ত। শরীরের সঙ্গে লড়াই করে তিনি প্রমাণ করেছেন তার মানসিক দৃঢ়তা কতটা শক্তিশালী।
অবশেষে ৪১তম ওভারে সিঙ্গেল নিয়ে পূর্ণ করেন নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি। ১১৪ বলে শতক ছোঁয়ার পর খুব বেশি উদযাপনও করেননি,ব্যাট তুলে ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়েই থেমে যান। তার এই নিরব উদযাপনই যেন বলে দেয়, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়েও দলের প্রয়োজনই তার কাছে বড়।
শেষ পর্যন্ত ১০৫ রান করে আউট হন শান্ত, কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের ভিত গড়ে দিয়েছেন তিনি। এর আগেও চট্টগ্রামের এই মাঠেই শতক করেছিলেন তিনি, আর এবারও সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন নতুন করে।




