সময় যখন খারাপ যায়,সবদিক থেকেই যেন খারাপ যায়।নেইমারের সেই খারাপ সময় যেন কাটছেইনা।
বিশ্বকাপ মানেই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য উন্মাদনা, আর সেই আবেগের বড় অংশ জুড়ে থাকে পানিনির বিখ্যাত স্টিকার অ্যালবাম।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে প্রকাশিত ৯৮০ স্টিকারের এই বিশাল সংগ্রহে বড় এক চমক,ব্রাজিলের সুপারস্টার নেইমারের কোনো জায়গাই রাখা হয়নি।
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ আসরের অ্যালবামে অন্যতম আকর্ষণ হওয়া এই তারকা এবার পুরোপুরি বাদ পড়েছেন, যা ভক্তদের মধ্যে বিস্ময় তৈরি করেছে।
পানিনির ব্রাজিল শাখার প্রধান রাউল ভালেসিলো বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানান, তাদের একটি বিশেষ দল নিয়মিত জাতীয় দলের স্কোয়াড পর্যবেক্ষণ করে এবং সম্ভাব্য বিশ্বকাপ স্কোয়াডে কারা থাকতে পারেন, তা বিশ্লেষণ করে। খেলোয়াড়ের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং দলে ডাক পাওয়ার ধারাবাহিকতা,সব মিলিয়েই এই নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্ধারিত হয়।
এই মানদণ্ডে পিছিয়ে পড়াতেই নেইমারের অ্যালবামে জায়গা হয়নি।

অবশ্য স্টিকার অ্যালবামে থাকা বা না থাকা চূড়ান্তভাবে বিশ্বকাপ দলে থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। ব্রাজিলের কোচ আগামী ১৮ মে তার চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন। তবে শোনা যাচ্ছে, তিনি খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে খুব কঠোর অবস্থানে আছেন, যা নেইমারের সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
ব্রাজিলের কিংবদন্তি রাই’ও বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, নেইমার এখনও প্রতিভাবান এবং ম্যাচে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার ফর্ম ও গতি আগের মতো নেই। একাধিক ইনজুরির কারণে তিনি নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারেননি, যা জাতীয় দলে ফেরার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে ২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে গুরুতর ইনজুরিতে পড়ার পর থেকেই নেইমার জাতীয় দলের বাইরে। যদিও ২০২৫ সালে তিনি তার শৈশবের ক্লাব-এ ফিরে আসেন, তবুও আগের সেই পারফরম্যান্স আর দেখা যায়নি।
এদিকে পানিনি ইতোমধ্যেই নতুন প্রজন্ম ও ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের নিয়ে অ্যালবাম সাজিয়েছে। সেখানে জায়গা পেয়েছেন,ভিনি, রদ্রিগো,রাফিনহাদের মতো তারকারা। ৩০ এপ্রিল বাজারে আসা এই অ্যালবাম যেন ইঙ্গিত দিচ্ছে,ব্রাজিল দল এখন ধীরে ধীরে নতুন এক যুগের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে নেইমারের জায়গা অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।




