৩৮ বছর বয়সে ছাড়েন ইউরোপ। চেলসির সফল পাট চুকিয়ে যান নিজ দেশে, নিজের সাবেক ক্লাবে। সবাই তখন ভেবেছিল বিদায়ের দিন গুণছেন সিলভা।
তবে ৩৮ এ নিজ দেশে ফেরত যাওয়া সিলভা ফিরেছেন ৪১ এ এসে। পর্তুগালের শীর্ষ লীগে সিলভা শুধু ফিরেননি, জিতে নিয়েছেন শিরোপা।
সর্বশেষ ম্যাচে আলভারকার বিপক্ষে নামে পোর্তো। সেখানেই ১-০ গোলে জয় পায় পর্তুগীজ দলটি।
যে জয়ে ৩৪ ম্যাচে ৮৫ পয়েন্ট দলটির। দুইয়ে থাকা স্পোর্টিং সিপি থেকে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে তারা। ফলে ২ ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত জয় পোর্তোর।
আর তাতেই শিরোপা উৎসব সিলভার। আরো একবার ইউরোপে এসে পেলেন শিরোপা। আসরে পোর্তোর হয়ে ১৩ ম্যাচ খেলেন সিলভা, এখনও তার গড় রেটিং ৭.২। নিজের খেলা সর্বশেষ ম্যাচেও ছিলেন ৯০ মিনিট। ৬০ পাস, ৪ সঠিক লং বল, ১ বার চাঞ্চ ক্রিয়েট, ৫ বার ক্লিয়ারেন্স, ২ বার সফল ট্যাকেল ও শতভাগ হারে ৫ টি ডুয়েলস জয় করে সিলভা প্রমাণ করেন, তিনি এখনও কতটা কার্যকর।
যে কার্যকারীতায় লাভবান হয় তার দল পোর্তো। ৪ মৌসুম পর আবারো এই দলটি পায় তাদের কাঙ্ক্ষিত শিরোপা।
আর এতে উজ্জ্বল হয় সিলভার ক্যাবিনেট। এর আগে ইংল্যান্ড, ফ্রাঞ্চ, ইতালিতে শিরোপা উৎসব করেন তিনি।
এবার পর্তুগালে এসেও দেখালেন তার সাফল্যের ছাপ। ক্যারিয়ারে ৩৪ তম শিরোপার স্বাদ পেলেন এবার। ২০১৯/২০ এর পর আবারো জিতলেন কোন ইউরোপের লীগের শিরোপা। ২০২৩ এর পর ইউরোপের মঞ্চে পেলেন শিরোপা। সিলভার তুলনা যেন সিলভাই।
আরো এক কারণে সিলভা অনন্যা। সাধারণত দেখা যায় ব্রাজিলিয়ানরা অনেক প্রতিভা নিয়ে আসলেও স্থায়ী হননা।
অনেকে হারিয়ে যান দ্রুত। বিশেষ করে ৩০ এর আশেপাশেই শেষ হয় অনেকের ক্যারিয়ার। সেখানে ৪১ এ এসে সিলভা কাপাচ্ছেন ইউরোপ।
সিলভা যেন দেখিয়ে দিলেন লাতিনদের, পরিশ্রম ও শৃঙ্খলা থাকলে বয়স কোন বিষয় নয়। ইচ্ছা থাকলে লাতিনরাও পারে লম্বা সময় পারফর্ম করতে।
সিলভা জাতীয় দলে আসবেন কিনা আবারো, সে আলাপ আজ থাক৷ তবে যা কিছু করে যাচ্ছেন, সিলভাকে তাই নির্ধ্বিদায় জীবন্ত কিংবদন্তি ট্যাগ দেওয়া যায়। আগামী দিনে নিজেকে আরো ছাড়িয়ে যাক তিনি, সেটাই থাকবে প্রত্যাশা।




