ইঞ্জুরির কারণে ২০২৩ সালে ম্যাচ থেকেই যান ছিটকে। এরপর ক্যালেন্ডারের পাতায় সময় পার হয়েছে বছরে বছর।
নেইমারের আর ফেরা হয়নি। গানের মত করেও যেন বলতে হয়, নদী শুখিয়ে গেছে, তবু আসোনি তুমি। কখনও নিজের ইঞ্জুরি আবার কখনও কোচকে সন্তষ্ট করতে না পারায় ফেরা হয়নি নেইমারের।
তবে বদলেছে সে সময়। বর্তমানে নেইমার ফেরার স্টেটমেন্টই দিচ্ছেন না। আগের নেইমারকেই যেন ফিরিয়ে আনছেন।
সান্তোসের হয়ে মাঠে নেমেই নেইমি যা করছেন, তাতে সেটাই মনে করাচ্ছে ভক্তদের। পারফর্মেঞ্চ এখন এমন, নেইমারের জায়গায় অন্য কোন নতুন নাম হলেও তিনিও দাবি রাখতেন বিশ্বকাপ দলের সুযোগের।
মৌসুমে ১৩ ম্যাচে ৯ গোল এসিস্ট। ৬ গোলের সাথে আছে ৩ এসিস্ট৷ সিরিআতে ৭ ম্যাচে ৬ গোল এসিস্ট, ৪ গোলের সাথে ২ এসিস্ট।
মৌসুমে সান্তোস সিরিআ তে যত ম্যাচ খেলেছেন, তার অর্ধেকের কম ম্যাচ খেলেছেন নেইমার। তবুও দলটার সর্বোচ্চ স্কোরার তিনি, সর্বোচ্চ এসিস্টও আসে তার পা থেকেই। উপরে যে দাবি করা হয়েছিল সেটা যে মোটেও বাড়িয়ে বলা হয়নি, এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ দেয়।
সর্বশেষ ম্যাচে নেইমার লেফট উইঙে নেমে গোল করেছেন। সাথে ছিল চাঞ্চ ক্রিয়েশন, ড্রিবলিং, লং বল, ডুয়েলস জয়। এর আগের ম্যাচে নেইমার নেমেছেন এটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে। সেখানেও গোল করেছেন তিনি, হয়েছেন ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ।
সিরিআ তে গত মৌসুমের শেষদিকে নেইমার নেমেছেন স্ট্রাইকার হিসেবে। সেখানেও টানা ম্যাচে পেয়েছেন গোল এসিস্ট।
আক্রমণে ভার্সেটাইল এমন স্কিলফুল খেলোয়াড়কে কে না চাইবে দলে। এমনকি নামটা যদি নেইমার নাও হত, তবুও এই পারফর্মেঞ্চের পর দাবিটা জোড়ালোই থাকত।
যে কারণে নেইমারকে ঘিরে ব্রাজিল আবার দল সাজাক, এটা অলিক স্বপ্ন নাহ। ক্লাব ও জাতীয় দলে পারফর্মেঞ্চের ভারসাম্য করতে নেইমার জানেন। নেইমার জানেন কিভাবে প্রেশার সামলাতে হয়, খ্যাতি ব্যাবহার করতে হয়। বিশ্বকাপে ব্রাজিলিয়ানদের তরুণদের জন্য থাকবে চাপের মুহুর্ত।
আর সেখানে নেইমারকে দেখলে আত্মবিশ্বাসীই হবেন তারা। কোচ কার্লো টেকনিক্যালিও নির্ভার হতে পারবেন নেইমারের উপর। এবার অন্তত নেইমারকে ঘিরে ২৬ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখুক ব্রাজিল। আর সেটারই বাস্তবায়ন দেখতে চাইবে ব্রাজিল ভক্তরা।




