ফুলব্যাক নিয়ে চিন্তার জায়গা ছিল আগে ভাগেই। ভ্যান্ডারসনের চোট ব্রাজিলের ডিফেন্স পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।
এর সঙ্গে এডার মিলিতাও ছিটকে যাওয়ায় ডান দিকের রক্ষণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে কোচ কার্লো আনচেলত্তি কে।
আগে যেখানে রাইট ব্যাক পজিশন নিয়ে খুব বেশি আলোচনা ছিল না, এখন সেখানে একাধিক বিকল্প ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রতিযোগিতা।
তবে সবার যেমন আছে ভালো দিক, আবার আছে দুর্বলতা। তরুণ ওয়েলসি ফ্রাঙ্কার সাথে , অভিজ্ঞ দানিলো আছেন দলে।
আবার ডিফেন্সিভ ভারসাম্যের জন্য আলোচনায় থাকা রজার ইবনেজ।
এই তিনজনের মধ্যে কাকে শেষ পর্যন্ত বেছে নেবেন আনচেলত্তি, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
ওয়েসলিকে নিয়ে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে আগ্রহটা অনেক দিনের। আক্রমণভাগে তার গতিময়তা এবং ওভারল্যাপিং রান আধুনিক রাইট ব্যাকের সব বৈশিষ্ট্যই মনে করিয়ে দেয়।
চলতি মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে তিনি ধারাবাহিকভাবেই আক্রমণে অবদান রেখেছেন। একাধিক অ্যাসিস্টের পাশাপাশি সুযোগ তৈরির সংখ্যাও ছিল চোখে পড়ার মতো। ড্রিবল সফলতার হার এবং ফাইনাল থার্ডে বল নেওয়ার দিক থেকেও ছিলেন কার্যকর।
তবে তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ডিফেন্সিভ পজিশনিং। দ্রুত ওপরে উঠে যাওয়ার কারণে অনেক সময় পেছনে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে, যেটা বড় ম্যাচে ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে যেখানে ছোট ভুলও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, সেখানে আনচেলত্তি হয়তো আরও ব্যালান্সড কাউকে চাইবেন।
অন্যদিকে রজার ইবনেজ মূলত সেন্টার ব্যাক হলেও প্রয়োজন হলে ডান পাশে খেলতে পারেন স্বচ্ছন্দে। এই মৌসুমে তার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ডিফেন্সিভ স্থিরতা। ট্যাকল, ইন্টারসেপশন এবং ডুয়েল জয়ের পরিসংখ্যানে তিনি ছিলেন বেশ ধারাবাহিক।
এয়ারিয়াল ডুয়েলেও দেখিয়েছেন দৃঢ়তা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, তিনি ডিফেন্স লাইনে বাড়তি নিরাপত্তা দিতে পারেন।
ব্রাজিল যদি এমন কোনো ম্যাচ খেলে যেখানে প্রতিপক্ষের কাউন্টার অ্যাটাক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে, তাহলে ইবনেজের মতো ডিফেন্স-ফার্স্ট ফুটবলারের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যাবে। তবে আক্রমণে ওয়েসলির মতো প্রভাব তৈরি করার সামর্থ্য তার নেই। ফলে ইবনেজকে খেলানো মানে কিছুটা রক্ষণাত্মক ভারসাম্যের দিকে ঝুঁকে যাওয়া।
এই আলোচনায় অভিজ্ঞ দানিলোকেও পুরোপুরি বাদ দেওয়া যাচ্ছে না। বয়স বাড়লেও বড় মঞ্চে তার অভিজ্ঞতা এখনও ব্রাজিলের জন্য মূল্যবান। বিশেষ করে অভিজ্ঞতা ও রক্ষণকে আলাদা মুল্যয়ন করেন কোচ কার্লো। আর সেই যোগ্যতায় দানিলো যাবেন বিশ্বকাপে। বল পজিশন ধরে রাখা, ম্যাচের গতি বুঝে খেলা এবং ডিফেন্স সংগঠিত রাখার দিক থেকে তিনি এখনও সামর্থ্যবান।
সব মিলিয়ে ব্রাজিলের রাইট ব্যাক পজিশন এখন তিন ধরনের আলাদা প্রোফাইলের লড়াই। ওয়েসলি আক্রমণাত্মক শক্তি এনে দিতে পারেন, ইবনেজ দিতে পারেন ডিফেন্সিভ নিরাপত্তা, আর দানিলো যোগ করতে পারেন অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত স্থিরতা।
শেষ পর্যন্ত কে সুযোগ পাবেন, সেটি অনেকটাই নির্ভর করবে প্রতিপক্ষ, ম্যাচ পরিস্থিতি এবং আনচেলত্তির কৌশলগত পরিকল্পনার ওপর। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে কাউকে এগিয়ে রাখার।
তুলনামূলক দুর্বল দলের সাথে সেখানে ওয়েলসি আসতে পারেন একাদশে, আর শক্তিশালী দলের জন্য ইবনেজ বা দানিলো আসতে পারেন দলে। সব মিলিয়ে দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কার্লোর পরিকল্পনায় থাকেন কে।




