গত কয়েক বছরে ইউনাইটেডের মাঝমাঠে অভিজ্ঞতার প্রতীক ছিলেন ক্যাসিমিরো। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে আসার পর তার নেতৃত্ব, ট্যাকলিং দক্ষতা এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দলকে বহু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সহায়তা করেছে।
২০২২ সালে দলে এসেছেন, দীর্ঘ ৪ বছরে হয়েছিলেন ভক্তদের ভালোবাসার অংশ।
তবে ক্যাসিমিরো বিদায় নিতে চেয়েছেন সম্মান থাকতেই। সেই কাজটাই করলেন এই ইউনাইটেড তারকা।
৩৫ বছর বয়সে ইপিএল ছাড়তে যাচ্ছেন ক্যাসিমিরো, সম্ভাব্য ছাড়তে যাচ্ছেন ইউরোপ। এবার তার বদলে ডিফেন্সিভ মিডে তার স্বদেশী খেলোয়াড়ই আনল ইউনাইটেড।
এর মাঝে নিশ্চিত হয়েছে ইউনাইটেডের সাথে এডারসনের চুক্তি। আটলান্টার হয়ে দীর্ঘদিন দুর্দান্ত পারফর্মেঞ্চ এডারসনের। এই মৌসুমেও করেছেন ৩ গোল, সাথে আছে জোড়া এসিস্ট।
শক্তিশালী শারীরিক সক্ষমতা এডারসনের মুল অস্ত্র। তবে শুধু ডিফেন্সিভভাবে দারুণ এমনটা নয় মোটও।
বল দখলে রাখার দক্ষতা, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়ার সামর্থ্য এবং দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষমতার জন্যও ইউরোপের বিভিন্ন বড় ক্লাবের নজরে ছিলেন তিনি।
সেই তালিকায় বার্সেলোনা, এথলেটিকো মাদ্রিদের মত ক্লাবও ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থেকে তাকে দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
গোল, ফ্যাব্রিজিও রোমানো সহ একাধিক মাধ্যম এমনটা নিশ্চিত করেছে। এমনকি আটলান্টার মালিকের থেকেও এসেছে সংবাদ।
যেখানে শেষ ম্যাচে এডারসনের না খেলার কারণ জানান আটলান্টা মালিক রাফায়েল পালাদিনহো। সেখানে বড় এক ক্লাবের সাথে যোগাযোগ ও চুক্তির জন্য এডারসন খেলেননি বলেই জানান পালাদিনহো। আর সেই ক্লাবটি যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডই, তাতে সন্দেহ নেই কারো।
একাধিক মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে এডারসনকে নিতে ৪৩ থেকে ৪৬ মিলিয়ন ইউরো অর্থ খরচ করেছে ইউনাইটেড।
বাংলাদেশের টাকায় যা ৫৫০ কোটি টাকারও অধিক। এর আগে ক্যাসিমিরো নিজেই তার বিকল্প হিসেবে এডারসনকে বলে যান। আবার ভারপ্রাপ্ত থেকে স্থায়ী হবার এই প্রথম কাউকে চুক্তিবদ্ধ করলেন ইউনাইটেডের ওয়ান্ডার কোচ মাইকেল ক্যারিক।
শোনা যাচ্ছে ২৭ বছরের এই মিডফিল্ডারের সাথে সম্ভাব্য চুক্তি ৫ বছরের। অর্থ্যাৎ লম্বা সময়ের জন্যই এডারসনকে নিজেদের ডেরায় নিয়েছে ম্যানইউ।
নতুন মৌসুমে ইউনাইটেডের কৌশলগত পরিকল্পনায় এডারসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তরুণ এই ব্রাজিলিয়ানকে ঘিরে মাঝমাঠে নতুন ভারসাম্য তৈরি করার স্বপ্ন দেখছে ক্লাবটি।
সমর্থকরাও আশা করছেন, ক্যাসিমিরোর রেখে যাওয়া শূন্যতা দ্রুতই পূরণ করতে পারবেন তিনি। ব্রাজিল ভক্তদেরও এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে নিয়ে থাকবে একই আশা। এবার দেখা যাক, আগামী দিনে তিনি কতটা করতে পারেন আশার প্রতিফলন।




