দুর্দাশা যেন কাটছেইনা ভারতীয় ফুটবলে। একটা সময়ে সাফের সেরা দেশ ছিল ভারত। র্যাংকিংএ অন্যদের থেকে ছিল যোজন যোজন এগিয়ে। তবে বর্তমান সময়ে সেই ভারতীয় দলকে সবাই খাওয়াচ্ছে নাকানিচুবানি। এমনকি ঘরে ডেকে এনে ভারতকে দিচ্ছে থ্রি পিস। যেখানে বাংলাদেশ ইউরোপে গিয়ে জয় নিয়ে আসে, সেখানে এশিয়ার মাঠে লজ্জাজনক হার ভারতের।
৫ জুন ইউরোপের মাঠে সান মারিনোর বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ দল। সেখানেই ইউরোপিয়ান এই দলকে তাদের মাঠেই হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। নিয়মিত বড় বড় দলের সাথে ম্যাচ খেলা সান মারিনোর বিপক্ষে দাপট ছিল বাংলাদেশেরই। আর সেখানে তপু বর্মন ইতিহাস গড়ে জয় এনে দেয় বাংলাদেশকে।

তবে বাংলাদেশ পারলেও পারেনি প্রতিবেশী ভারত। একইদিনে তাজিকিস্তানের মুখোমুখি হয় তারা। তবে এশিয়ার এই দেশটির কাছে তেমন সুবিধা পায়নি ভারতীয়রা। উলটো তাদের মাঠে থ্রি পিস হজম করতে হয় ভারতকে।
ম্যাচের শুরুতে তাজিকিস্তানের ববেভ পেনাল্টিতে গোল করে লিড এনে দেন। এরপর ২২ বছর বয়সী ডিফেন্ডার কারিমোভ গোল করেন ম্যাচের ৬২ মিনিটে। তাতে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় তাজিকিস্তান। এর ৬ মিনিট পর আবারো লিড পায় তারা। ৬৮ মিনিটে এবার গোলের খাতায় নাম লেখান এহসান পাঞ্জশেনবি। তাতেই থ্রি পিস হজম করে ভারত।
শেষদিকে বদলে নেমে চৌধুরী এক গোল করলে কমে ব্যাবধান, তবে তাতে আসেনা কাঙ্ক্ষিত ফল। এর আগেও এই ফিফা উইন্ডোতে দুই ম্যাচ খেলে ভারত। তবে জিম্বাবুয়ে ও জ্যামাইকার বিপক্ষে সে দুই ম্যাচেও ফল নিজেদের পক্ষে আসেনি ভারতের। নিজেদের খেলা শেষ ৬ ম্যাচে ৫ টাতে হেরে লেজেগোবরে অবস্থা ভারতীয় দলের।
এই হারে ভারতীয় ফুটবলে সমালোচনার ঝড় আরও জোরালো হয়েছে। এক সময় দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে একক আধিপত্য দেখানো দলটি এখন ধারাবাহিকভাবে হোঁচট খাচ্ছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল কিংবা সমমানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। অপরদিকে সান মারিনোর বিপক্ষে জয় নিয়ে ডুলির বাংলাদেশ দিচ্ছে নতুন বার্তা।
আইসিএল সহ বড় বড় লীগ আয়োজন করে ফুটবলে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ভারত। তবে তাতে কাজের কাজ হয়নি তাদের।৷ একদিকে বাংলাদেশের উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে ভারতের হতাশা, একই ফিফা উইন্ডোতে দুই প্রতিবেশীর গল্প যেন দুই মেরুর। আর এই গল্প যে বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তরা উপভোগ করবেন তাতে নেই সন্দেহ।




