আর মাত্র এক দিন পরই শুরু হচ্ছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান। শিরোপাধারী দল হিসেবে এবারের আসরে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা।
সেখানে প্রথম প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে দাঁড়িয়ে আছে আফ্রিকার শক্তিশালী দল আলজেরিয়া। কাগজে কলমে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও ইতিহাস বলছে, আলজেরিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, দুই দলের একমাত্র মুখোমুখি লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার জালে এই আলজেরিয়া বল জড়িয়েছিল তিনবার।
১৯ বছর আগে, ২০০৭ সালের ৫ জুন স্পেনের বার্সেলোনায় এক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া।
আর সেখানেই আর্জেন্টিনাকে বেশ ভুগিয়েছিল আলজেরিয়ার আক্রমণভাগ। সেখানে মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় ৩ গোল দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পায় আলজেরিয়া দল।
সেই সময়ের আর্জেন্টিনা দলে ছিলেন একাধিক তারকা ফুটবলার। গোলপোস্টে ছিলেন রবার্তো আব্বোন্দানসিয়েরি। রক্ষণে ছিলেন ইন্টার মিলানের অভিজ্ঞ হাভিয়ের জানেত্তি, তার সাথে ছিলেন রবার্তো আয়ালা ও গ্যাব্রিয়েল মিলিতোর মতো তারকারা।
মাঝমাঠে ছিলেন হুয়ান রোমান রিকেলমে, এস্তেবান কাম্বিয়াসো ও ফার্নান্দো গাগো। আর আক্রমণে ছিলেন কার্লোস তেভেজ, হার্নান ক্রেসপো ও হাভিয়ের স্যাভিওলার মতো ভয়ংকর নাম। তবে এত এত তারকাদের নিয়েও ৩ গোল হজম করতে হয় আলভিসেলেস্তাদের।
তারকায় ঠাসা সেই দলও কিন্তু আলজেরিয়ার আক্রমণ ঠেকাতে পারেনি পুরোপুরি। ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে আলজেরিয়া একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে তিনবার বল পাঠায় জালে। করিম জিয়ানি ৬৭ মিনিটে শুরু করেন গোলযাত্রা। শেষদিকে চাদলি আমরি ৮৮ মিনিটে গোল করে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে চাপে ফেলে দিয়েছিলেন।৭২ মিনিটে নুরেদ্দিন দাহাম করেন এক গোল।
যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা জয় পায় আর্জেন্টিনা দল।আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেছিলেন কার্লোস তেভেজ, হার্নান ক্রেসপো।
একইসাথে জোড়া গোল করেছিলেন হাভিয়ের স্যাভিওলা। শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
যদিও সেখানে তাদের সাহায্য করে পেনাল্টিতে গোল পাওয়া। তবে আলজেরিয়া সেদিন দেখিয়ে দিয়েছিল যে সুযোগ পেলে বড় দলকেও বিপদে ফেলতে তারা সক্ষম।
এবার আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। প্রায় দুই দশক পর নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে লড়াইয়ে নামবে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। সেই সময় আর্জেন্টিনার তারকাবহুল দলের কাছে র্যাংকিংএ ৬৬ নাম্বার ছিল আলজেরিয়া। এবার তারা আছে ২৮ নাম্বারে। অপরদিকে শেষ দুই ম্যাচে লাতিনের দুই দল হারাতে পারেনি তাদের।
তাই লড়াইটা যে সহজ হবেনা, সেটা বুঝতে হবে আর্জেন্টিনা দলের।
এখন দেখার বিষয়, ১৯ বছর আগের সেই তিন গোলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারে কি না আলজেরিয়া। নাকি শিরোপাধারী মেসি, এমিদের আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে শক্তিশালী এক জয় দিয়ে। আর সেই দৃশ্য দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ১৭ জুন সকাল ৭ টার পর্যন্ত।




