বিশ্বকাপ জেতার আনন্দটা কেমন? একজন ফুটবলারের কাছে এর চেয়ে বড় স্বপ্ন আর কী-ই বা হতে পারে! সেই স্বপ্ন যখন সত্যি হলো, তখন নিজের উচ্ছ্বাসের মাঝেও একজন মানুষকে মনে করলেন স্পেনের তরুণ তারকা নিকো উইলিয়ামস। আর সেই মানুষটি হলেন ব্রাজিলের সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র
বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে স্পেন। শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠজুড়ে তখন উৎসব, আনন্দ আর উল্লাস। সতীর্থদের সঙ্গে ট্রফি উদযাপন করছিলেন নিকোও। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে এমন একটি কথা বললেন, যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
বিশ্বকাপের আনন্দ নিকো ভাগাভাগি করতে চান একজনের সাথে। যাকে আইডল মেনেই বড় হয়েছেন তিনি, যিনিই তার ফুটবলের পথপ্রদর্শক। সেই নেইমার জুনিয়ারকে এই শিরোপা উৎসর্গ করতে চান নিকো। নিজের এই খুশির মুহুর্তেও নিকোর মাথায় শুধু নেইমির নাম।
বিশ্বকাপের ফাইনালে পারফর্মেঞ্চে রাঙিয়েছেন এই স্প্যানিশ উইঙ্গার। মাঠে নেমে ডানদিক থেকে আর্জেন্টিনাকে পরাস্ত করেছেন। একবার বল জালেও পাঠান, তবে তা বাতিল হয় ফাউলের কারণে। এরপর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের একমাত্র গোলের এসিস্টও আসে নিকোর কাছ থেকে। তার বুদ্ধিদীপ্ত হেডেই বল পান ফেরান, গোল করেন সেখান থেকে। নিজের ও দলের এমন পারফর্মেঞ্চ নেইমার উপভোগ করেছেন, এমনটাও প্রত্যাশা করেন নিকো উইলিয়ামস
ম্যাচশেষে নিজের খুশির মুহুর্ত ও নেইমারকে উৎসর্গ করা নিয়ে নিকো বলেন “ নিকো বলেন, “আমি খুবই খুশি। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত। আমার আদর্শ নেইমার। আশা করি, তিনি আমাদের খেলা দেখেছেন। এই শিরোপা তার জন্যও।”
একজন বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারের মুখে এমন কথা শুনে আবেগাপ্লুত হয়েছেন অনেকেই। কারণ নেইমার হয়তো বিশ্বকাপ জিততে পারেননি, কিন্তু তার খেলা দেখে বড় হয়েছেন বর্তমান প্রজন্মের অসংখ্য ফুটবলার। নিকো উইলিয়ামসও তাদের একজন।
ছোটবেলা থেকে নেইমারের ড্রিবলিং, গতি, সাহসী ফুটবল আর সৃজনশীলতা মুগ্ধ করেছে কোটি কোটি ভক্তকে। বার্সেলোনা হোক, সান্তোস কিংবা ব্রাজিল,প্রতিটি জার্সিতেই তিনি ছিলেন দর্শকদের বিনোদনের অন্যতম বড় নাম। অনেক তরুণ ফুটবলারের মতো নিকোর কাছেও নেইমার শুধু একজন খেলোয়াড় নন, বরং অনুপ্রেরণার আরেক নাম। সাকা, লামিন, মুসিয়ালা থেকে এই তালিকাটা বেশ লম্বাই।
অথচ ভাগ্যটা কখনোই বিশ্বকাপে নেইমারের পাশে দাঁড়ায়নি। কখনো ইনজুরি, কখনো হতাশাজনক বিদায়, কখনো দলের ব্যর্থতা সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফিটা অধরাই থেকে গেছে তার। কিন্তু তাই বলে তার প্রভাব একটুও কমেনি। যে কারণে বিশ্বকাপ জেতার মত মুহুর্তেও একজন খেলোয়াড় মনে করে নেইমারের নাম৷ কিছু না জিতেও এমন প্রাপ্তি খুব কম খেলোয়াড়েই জোটে।




