ভক্তরা বলেন, মেসি নাকি বিনয়ের প্রতিমূর্তি। মাঠে তার পায়ের জাদু, ব্যক্তিগত অর্জন কিংবা একের পর এক রেকর্ড, কোনো কিছু নিয়েই নাকি বাড়তি আত্মপ্রচার করতে দেখা যায় না তাকে।
অথচ এবার সেই ‘বিনয়ী’ মেসির ইনস্টাগ্রামেই দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। আন্তজার্তিক ফুটবল থেকে অবসরের পর যেন নিজের আসল রুপটাই প্রকাশ করে ফেললেন এলএমটেন।
সম্প্রতি মেসির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ব্যতিক্রমী গ্রাফিকে সাজানো হয়।
সেখানে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিভিন্ন অর্জনকে রসিদের আদলে সাজানো হয়।
সেখানে ছিল গোল, অ্যাসিস্ট, মাঠে কাটানো সময় এবং আর্জেন্টিনার হয়ে জেতা একাধিক বড় শিরোপার হিসাব। ২০২২ বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকার শিরোপা, অলিম্পিক স্বর্ণপদক কিংবা ফিনালিসিমা—কিছুই বাদ যায়নি সেই তালিকা থেকে।
কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে গ্রাফিকটির শেষ বার্তাটি। যেখানে লেখা ছিল “GOAT debate—settled”,। অর্থাৎ ‘সর্বকালের সেরা কে, এই বিতর্কের সমাপ্তি।’
লিওনেল মেসি এই বিতর্কের সমাপ্তি করেছেন বলেই তুলে ধরা হয় সেখানে। যার আক্ষরিক অর্থ দ্বারায় লিওনেল মেসি নিজেকে সর্বকালের সেরা হিসেবেই প্রমাণ করে ফেলেছেন এবং এই সেরার বিতর্ক শেষ করেছেন।
আর এখানেই মেসির কথিত বিনয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এতদিন তার ভক্তরা বারবার বলে এসেছেন, মেসি অন্য অনেক তারকার মতো নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে মুখর নন।
তিনি মাঠে কথা বলেন, নিজের হয়ে কথা বলার দায়িত্ব দেন পারফরম্যান্সকে। অথচ এবার যখন নিজের অর্জনকে একটি ‘রসিদে’ সাজিয়ে এনে নিজেকে গোট বলে দাবি মেসির।
মেসি সর্বকালের সেরা নাকি সেরা না তা নিয়ে ভক্তদের মাঝে চলবে আলাপ। কিন্ত বিনয়ী খ্যাত মেসির এমন কিছুই যেন এতদিন তার বিনয়ের অবতার নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়েছে নতুন করে।
এক যুগের বেশি সময় ধরে রোনালদোর সাথে সর্বকালের সেরার লড়াই হয়েছে মেসি।
এর চেয়েও বড় আকারে পেলে, ম্যারাডোনার সাথে তার রয়েছে গ্রেটেষ্ট হবার লড়াই। সেই আলাপে হয়ত কেউ মেসিকে এগিয়ে রাখবেন, কেউ অন্যদের এগিয়ে রাখবেন।
সর্বকালের সেরা কি না, সেটার সিদ্ধান্ত মেসির নিজের নয়। মাঠের ইতিহাস, পরিসংখ্যান, অর্জন এবং কোটি কোটি মানুষের মূল্যায়নই শেষ পর্যন্ত সেই রায় দেবে। যদি সত্যি সত্যিই মেসি বিনয়ী হতেন, তবে এই রায়টা তিনিই তুলে দিতেন দর্শকদের হাতে।
কিন্ত এবার রায়টা যেন নিজেই দিয়ে দিলেন আর্জেন্টাইন এই তারকা
আর সেটাই নতুন করে মেসির বিনয় নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়েছে। প্রশ্ন উঠিয়েছে তার মানসিকতা নিয়েও।
এতদিন যেসব ভক্তরা বলতেন মেসি এইসব নিয়ে ভাবেননা, তাদের মুখটাও যেন বন্ধ করে দিয়েছে এমন সব প্রচার। অন্তত নিজের মুখে নিজেকে সেরা বলার পর তারা আর মেসিকে বিনয়ী ও নিঅহংকারী হিসেবে রায় দিতে পারবেননা।




