আর্জেন্টাইনরা বলেন তারা একের পর ফাইনাল খেলেছেন। অথচ বেশিরভাগ ফাইনালেই আর্জেন্টিনার জুটে লজ্জার রেকর্ড।
এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি হারেনি আর কোন দল, তাদের সমান হেরেছে জার্মানি। একই সংখ্যক ফাইনাল খেলেও ব্রাজিলের চেয়ে ২ টি শিরোপায় পিছিয়ে আছে আর্জেন্টিনা দল। ফাইনালটা আর্জেন্টিনার নিজেদের দিকে রাঙানোর ইতিহাস কমই।
শুধু এখানেই হয়না সমাপ্তি। ফাইনালে আর্জেন্টিনার লজ্জার রেকর্ডও কম নয়।
বিশেষ করে যে শৈল্পিক ফুটবলের বড়াই করে আর্জেন্টিনা দল, সেখানেই ফাইনালে দেখা যায় হিংস্র ফুটবলের।
শারীরিক ফুটবলের নামে তারা দেখান নোংড়া ফুটবলের প্রতিচ্ছবি। আর সেখানেই তাদের ভাগ্যে জুটে একের পর এক কার্ড। শুধুমাত্র বিশ্বকাপ ফাইনালেই তারা পেয়েছে ৩ লাল কার্ড। তাদের চেয়ে বেশি লাল কার্ড বিশ্বকাপ ফাইনালে হজম করেনি কোন দল।
১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুই খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেন।
ম্যাচের ৬৫ মিনিটে বদলি নেমে পেদ্রো মনসন সরাসরি লাল কার্ড পান। এরপর ৮৭ মিনিটে গুস্তাভো দেজোত্তিও প্রতিপক্ষকে আঘাত করার কারণে বহিষ্কৃত হন।
বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম ম্যাচ, যেখানে কোনো খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেন। একই ম্যাচে আর্জেন্টিনার দুই খেলোয়াড় বহিষ্কৃত হওয়াও আজও একটি বিরল ঘটনা
সেই ফাইনালের পর ২০২২ বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠে আর্জেন্টিনা দল। তবে সেবার কোন লাল কার্ড না খেলেও ২০২৬ সালে এসে নিজেদের আর দমন করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। এবার দুইবার হলুদ কার্ড দেখে মাঠ থেকে বিদায় নেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এঞ্জো ফার্নান্দেজ। আর তাতেই লজ্জার ইতিহাসের পাতায় নাম লেখায় টিম আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাই একমাত্র দল, যারা পুরো ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের পোষ্টে একবারও শট করতে পারেনি।
এমনকি একবার নয়, নিজেদের ইতিহাসে ২ বার ঘটে এমন ঘটনা। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালেও জার্মানির সাথে শুরুর ৯০ মিনিটে একবারও গোলবারে শট করতে পারেনি আর্জেন্টিনা দল। ফাইনাল এলেই যেন লজ্জার রেকর্ড বের হয় আলভিসেলেস্তাদের।
পুরো আসরে কোনরকম রক্ষা পেলেও ফাইনালে নাক কাটা গিয়েছে আর্জেন্টিনার। একইসাথে প্রতিপক্ষকে আঘাত করা ও লাল কার্ড তাদের সম্মানহানিও করেছে আরো, তাতে নেই সন্দেহ।




