ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ বোলিং করে বাংলাদেশ যখন একের পর এক উইকেট তুলে নিচ্ছে, ঠিক তখনই তৈরি হয়েছে প্রযুক্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক।
অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভেন স্মিথকে আউট দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হলেও প্রযুক্তির সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত বেঁচে যান তিনি। ঘটনাটি ঘিরে বাংলাদেশের সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত রিভিউ নেওয়ার পরই স্মিথ প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটা শুরু করেন। তার শরীরী ভাষা দেখে মনে হচ্ছিল, তিনিও ধরে নিয়েছিলেন বল ব্যাটের কিনারায় লেগেছে এবং এবার তাকে ফিরতেই হবে।
মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলে যাওয়ার প্রত্যাশায় তখন বাংলাদেশ শিবিরেও ছিল আশাবাদ।
কিন্তু প্রযুক্তির পরীক্ষায় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। আল্ট্রা এজে বল ও ব্যাটের সংস্পর্শের স্পষ্ট কোনো স্পাইক ধরা পড়েনি। ফলে আম্পায়ারের নটআউট সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। আরেকবার জীবন ফিরে পান স্মিথ।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক। অনেকের প্রশ্ন, ব্যাটের এত কাছ দিয়ে বল যাওয়ার পরও কেন আল্ট্রা এজে কোনো স্পষ্ট সংকেত পাওয়া গেল না? স্মিথ নিজেও যখন আউট ভেবে মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন প্রযুক্তির ফলাফল নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন অনেকে।
এর আগে গত অ্যাশেজ সিরিজেও আল্ট্রা এজ ও স্নিকোমিটার প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল।
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রযুক্তির সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এমন ঘটনায় প্রযুক্তির নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।
তবে স্মিথের এই বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশের বোলিংয়ের দাপটকে ঢেকে দিতে পারেনি। বরং অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে বাংলাদেশ।
সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন হাসান মাহমুদ। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে একাই নিয়েছেন ছয় উইকেট। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন।
ফলে প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে বাংলাদেশই ছিল স্পষ্টভাবে এগিয়ে। স্মিথের মতো ব্যাটার একাধিকবার জীবন পেলেও শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পুরো ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রেখে ৫৩ ওভারেই গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, অস্ট্রেলিয়াকে সুবিধা দিতেই কি প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কারসাজি হয়েছে?
তবে এমন অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ নেই। তাই বিতর্ক থাকলেও একে সরাসরি ‘দুর্নীতি’ বলা যাবে না। তবে প্রযুক্তির সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন থেকেই যায়।




