মাঠে তখন জমজমাট ক্রিকেট ম্যাচ। খেলোয়াড়েরা ব্যস্ত প্রতিপক্ষকে হারানোর লড়াইয়ে। অথচ সেই সময়েই নির্ধারিত জায়গায় বসে মোবাইল ফোনে প্রেমিকার সঙ্গে মিষ্টি আলাপে মগ্ন এক ভারতীয় ক্রিকেটার!
বিষয়টি নজরে আসতেই শুরু হয় তদন্ত। শেষ পর্যন্ত নিয়ম ভঙ্গের দায়ে বড় অঙ্কের জরিমানার পাশাপাশি চলতি টুর্নামেন্ট থেকেই তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগে। গত ১০ আগস্ট দিন্দিগুলের এনপিআর কলেজ মাঠে একটি ম্যাচ চলাকালে ওই ক্রিকেটারের কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া যায়।
পরে তদন্তে জানায় যায়, ম্যাচ চলার সময় তিনি প্রেমিকার সঙ্গে মোবাইলে বার্তা আদান-প্রদান করছিলেন।
বিষয়টি নিয়ে অবশ্য ম্যাচ পাতানো বা দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ওঠেনি। তদন্তকারীরা তার ফোন পরীক্ষা করে কোনো জুয়াড়ি কিংবা ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণও পাননি।
ফলে দুর্নীতির অভিযোগে কঠোর শাস্তির বদলে মূলত নিষিদ্ধ এলাকায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্ত চলমান থাকায় ক্রিকেটারের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।
তবে তিনি বাঁহাতি এবং সর্বশেষ রঞ্জি ট্রফিতে তামিলনাড়ুর হয়ে দুটি অর্ধশতক করেছিলেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শুরুতে তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মোবাইল ব্যবহারের সঙ্গে দুর্নীতির কোনো যোগসূত্র না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত এক লাখ রুপি জরিমানার সিদ্ধান্ত হয়।
এর পাশাপাশি চলতি তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগে আর খেলতে পারবেন না ওই ক্রিকেটার। তাকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ক্রিকেটে ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নির্ধারিত এলাকায় মোবাইল ফোন ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
কারণ, ম্যাচের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সম্ভাব্য দুর্নীতি ঠেকানোই এর মূল উদ্দেশ্য। প্রেমিকার সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপ হলেও তাই নিয়মের বাইরে গিয়ে মোবাইল ব্যবহার করায় শাস্তি এড়াতে পারেননি ওই ক্রিকেটার।




