ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রে এই জয় শুধু শান্তদের আত্মবিশ্বাসই বাড়ায়নি, ফাইনালের দৌড়েও এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে আরও একটি টেস্ট বাকি থাকলেও বাংলাদেশের সামনে এখন মোট সাতটি ম্যাচ রয়েছে। এই সাত ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করতে পারে লর্ডসের ফাইনালের টিকিট।
অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর পাঁচ টেস্টে বাংলাদেশের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৪০। জয়ের হারও বেড়ে হয়েছে ৬৬.৬৭ শতাংশ।
ফলে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলে টেবিলের চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
সামনে আছে কেবল অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড।
ফাইনালে যেতে বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাকি সাত টেস্ট থেকে প্রয়োজনীয় পয়েন্ট সংগ্রহ করা। হিসাব অনুযায়ী, সাত ম্যাচে আরও ৪৭ পয়েন্ট তুলতে পারলে বাংলাদেশের মোট পয়েন্ট ৮৭-তে পৌঁছাবে এবং পয়েন্ট জয়ের হার ৬০ শতাংশের ওপরে থাকবে।
অর্থাৎ, তিনটি জয় পেলেই যে ফাইনাল নিশ্চিত,বিষয়টি এতটা সরল নয়। তিন জয়ের সঙ্গে ড্র কিংবা অন্য ম্যাচগুলোর ফলও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সহজ সমীকরণ হতে পারে সাত ম্যাচে চার জয়। প্রতিটি জয়ে ১২ পয়েন্ট হিসেবে চার জয় থেকে আসবে ৪৮ পয়েন্ট। তাতে মোট পয়েন্ট দাঁড়াবে ৮৮। বাকি তিন ম্যাচে হারলেও এই হিসাব বাংলাদেশকে ফাইনালের শক্ত দাবিদার করে তুলবে।
আরেকটি সম্ভাব্য সমীকরণ হলো তিন জয় ও তিন ড্র। এতে জয় থেকে ৩৬ এবং ড্র থেকে ১২ পয়েন্ট,মোট ৪৮ পয়েন্ট পাওয়া যাবে। বাকি একটি ম্যাচে হারলেও প্রয়োজনীয় অবস্থানে থাকতে পারবে বাংলাদেশ।
সামনে অস্ট্রেলিয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ রয়েছে। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডকে মোকাবিলা করার পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে খেলতে হবে বাংলাদেশকে।
কঠিন এই পথ পেরোতে হলে ধারাবাহিকতাই হবে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
ডারউইনের জয় তাই শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়; এটি বাংলাদেশের সামনে খুলে দিয়েছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দরজা। এখন সেই দরজা দিয়ে লর্ডসে পৌঁছাতে হলে প্রতিটি ম্যাচেই হিসাব কষে এগোতে হবে শান্তদের।




