ইতিহাস গড়ে আসিয়ান খেলার সামনে বাংলাদেশ। সাফের গন্ডি পেরিয়ে আরো প্রতিযোগিতামুলক আসরের সামনে বাংলাদেশ দল।
যেখানে শুরুর ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ প্রায় ৫০ ধাপ এগিয়ে থাকা মালেশিয়া। যেখানে জিততে হলে সেরাটাই দিতে হবে বাংলাদেশ দলকে, বাছাই করতে হবে সেরা একাদশ।
একাদশের গোলবারে থাকবেন আনিসুর রহমান জিকো। ডুলির অধীনে ফিরবেন এই গোলরক্ষক। যদিও স্কোয়াডে মিতুল মার্মা রয়েছেন।
আবার প্রবাসী সাইফ কেজরিওয়ালা ঝলক দেখাচ্ছেন। তবে এখনই সাইফকে হয়ত বড় মঞ্চে নামিয়ে দেবেনা বাফুফে। সেক্ষেত্রে তাদের থেকে ফর্মের জন্য জিকোই থাকবেন মুল একাদশের জন্য এগিয়ে।
রক্ষণে অভিজ্ঞতার জায়গাটা সামলাবেন তপু বর্মন। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ এই ডিফেন্ডার। মালয়েশিয়ার আক্রমণ সামলাতে তার অভিজ্ঞতাই ডুলির বড় ভরসা হতে পারে।
তপুর সঙ্গে সেন্টারব্যাকে থাকবেন তারেক কাজী। বর্তমানে ভুটানের ক্লাব পারো এফসিতে নিয়মিত খেলছেন তারেক, করছেন পারফর্ম।
সেখান থেকে এবার নিজের ঝলক দেখাতে চাইবেন এশিয়ান গেমসের বড় মঞ্চে।
রক্ষণে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম বিশ্বনাথ ঘোষ। ডানদিক থেকে আক্রমণ সামলানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে আক্রমণ গড়ার কাজ করতে হতে পারে তাকে।
লেফটব্যাকে বিশ্বই হতে পারেন ডুলির সেরা অস্ত্র। আলোচনা সমালোচনা থাকলেও সাদ উদ্দিনের উপরই যে নয়া কোচ ভরসা করবেন, তা স্কোয়াডেই স্পষ্ট৷ মালয়েশিয়ার উইং আক্রমণ ঠেকানোই অবশ্য হবে তার প্রথম কাজ। সাদের কাছ থেকে সেখানে সেরাটাই চাইবে ভক্তরা।
মাঝমাঠে অভিজ্ঞতার জায়গাটা ধরে রাখবেন জামাল ভুইয়া। বয়স ও অভিজ্ঞতা দুটোই তার পক্ষে থাকলেও এখন তার বড় দায়িত্ব হবে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করা। হামজার সঙ্গে জুটি বেঁধে রক্ষণ থেকে আক্রমণে বল পৌঁছে দেওয়ার কাজটা করতে হবে বাংলাদেশ অধিনায়ককে।
তবে মাঝমাঠের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই হামজা চৌধুরি। বাংলাদেশের হয়ে এরই মধ্যে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই ইংলিশ ফুটবলার।
বল দখল, ট্যাকল, প্রেসিং সব মিলিয়ে মালয়েশিয়ার মাঝমাঠে চাপ তৈরি করার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারেন এই শেফিল্ড তারকা।
পেলের ক্লাব কসমসে ফর্মে আছেন সামিত সোম। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে সংযোগ তৈরির দায়িত্ব থাকবে তার।
সরাসরি গোলের চেয়ে ফরোয়ার্ডদের জন্য সুযোগ তৈরি করার কাজটা বড় আকারেই থাকবে তার জন্য৷ নিজের ফর্মটা এশিয়ানেও দেখাতে চাইবেন তিনি।
রাইট উইঙে দলে ফিরবেন রাকিব হোসেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া ফুটবলে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। ২০২৫-২৬ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ১৮ ম্যাচে ১০ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করে মৌসুমের অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তিনি। ফলে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে রাকিবের গতি বাংলাদেশের অন্যতম বড় অস্ত্র হতে পারে।
তার সাথে লেফট উইঙে থাকবেন প্রবাসী ফাহমিদুল ইসলাম। । তরুণ এই ফরোয়ার্ডের গতি এবং একের পর এক ডিফেন্ডারকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতাই তাকে একাদশে এগিয়ে রাখছে।
শেখ মোরসালিনকে ফলস নাইন হিসেবে আসতে পারেন একাদশে। স্ট্রাইকারের জায়গায় থাকলেও নিচে নেমে বল নেওয়া, মাঝমাঠে অতিরিক্ত একজন তৈরি করা এবং রাকিব -ফাহমিদুলদের জন্য জায়গা খুলে দেওয়াই হবে তার মূল কাজ। এর বাইরে নিজের গোল করার দক্ষতাটাও কাজে লাগাতে চাইবেন তিনি।
সব মিলিয়ে এটাই হতে পারে ডুলির সেরা একাদশ। এবার দেখা যাক, কাদের নিয়ে মাঠে নামেন তিনি।




