আসরের শুরুর দিকে ডাক আসেনি। তবে মোহম্মদ নবী চলে গেলে তার বদলে ডাক আসে মেহেদী হাসান মিরাজের।
ব্যাট হাতে মিরাজ ঝলক দেখাতে পারেননি দুই ম্যাচে। তবে বল হাতে যা করেছেন, সেটাতেই সিপিএলে আলাদা আকর্ষণ পেয়েছেন এই বাংলাদেশী।
আসরের দুই ম্যাচে ৭ উইকেট, একটি ম্যাচ অফ দ্যা ম্যাচ। এর সাথে আসরের সবচেয়ে কম ইকোনমি। মিরাজ যেন ক্যারিবিয়ান লীগে স্থাপন করেছেন নিজের সম্রাজ্য।
আগের ম্যাচে গায়ানার হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন, দলের হয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন। এবার ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে আরো উজ্জ্বল মিরাজের বোলিং।
এদিন শুরুর ৪ অভারে উইকেট না হারিয়ে ৯ এর অধিক রান রেটে ব্যাটিং করে নাইট রাইডার্স। এরপর বল হাতে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
এসেই নিজের চতুর্থ বলে ফেরান নিউজিল্যান্ডের দানবীয় ব্যাটার কলিন মুনরোকে। মিরাজের বলে রিভার্স খেলতে গিয়ে পরাস্ত মুনরো, বোল্ড হয়ে ফিরে যান তিনি।
তবে পরের বলেই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট আদায় করেন মিরাজ। শুরুর বলেই মিরাজের লাইন বুঝতে ব্যার্থ উইকেটরক্ষক ব্যাটার নিকোলাস পুরান।
এই বাহাতি হার্ডহিটার স্থায়ী হন এক বল। মিরাজের দারুণ এক টার্নারে তিনিও হয়ে যান বোল্ড।
তৃতীয় ওভারে বল করতে এসে আবারো উইকেটের দেখা মিরাজের। এবার বোল্ড করেন আরেক বাহাতি ব্যাটসম্যান জাইড গোলিকে। মিরাজের বলে ডিফেন্স করতে গিয়েও রক্ষা হয়নি গোলির। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারও ফেরেন বোল্ড হয়ে।
শেষদিকে ব্যাট হাতে সুনীল নারিন কি করতে পারেন, সেটা জানা সবারই। তবে শুরু করার আগেই নারিনকে থামিয়ে দেন মিরাজ ।
বাংলাদেশী অলরাউন্ডের জোরের উপর করা বলের উত্তর ছিল না নারিনের কাছে। চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনিও হয়ে যান বোল্ড।
ম্যাচের শুরুর ৫ উইকেটের ৪ টাই আসে মিরাজের বোলিংএ। বোল্ড করেন মুনরো, নারিন, পুরানের মত খেলোয়াড়কেও।
আগের ম্যাচেও মিরাজ নিয়েছেন মোট ৩ উইকেট। দুই ম্যাচে ৭ উইকেট নেওয়ার সাথে সাথে রেকর্ডও করেছেন এই বাংলাদেশী অলরাউন্ডার।
দুই ম্যাচে ৮ অভারে মিরাজ দিয়েছেন ৩৬ রান, নিয়েছেন ৭ উইকেট। আসরে মাত্র ৪.৫ ইকোনমিতে রান দেন মিরাজ৷ তার চেয়ে কম ইকোনমিতে রান দেননি কেউ।
এই তালিকায় তিনে পিছনে ফেলেছেন নবী, নারিন, তাহির, উসমান তারিখ সহ আরো অনেক বোলারকে। পাকিস্তানের স্পিনার সাদাব খান ৪.৬৫ ইকোনমিতে বল করে আছেন মিরাজের পর দুই নাম্বার অবস্থানে। এমনকি বোলিং স্ট্রাইক রেটেও সবার সেরা বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। মাত্র ৬.৮৫ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন একটি উইকেট, যা করতে পারেননি কেউ।
আসরে মাত্র ২ ম্যাচ খেলেই সিপিএলে নিজের ছাপ রেখেছেন মিরাজ। এবার ব্যাট হাতে ঝলক দেখানোর পালা, সাথে দলকে চ্যাম্পিয়ন করা। আর সেটা করতে পারলেই ষোলোকলা পুর্ণ করে ফেলতে পারবেন এই বাংলাদেশী তারকা।




