৬ নভেম্বর ২০১৩ সাল, ইডেন গার্ডেন্সের মাঠে উইন্ডিজের বিপক্ষে হয় সুচনা। এরপর এক যুগের সাথে কেটেছে আরো এক বছর।
যেখান থেকে শুরু করেছেন, শামি থেমেছেন সেখানেই। ৬ নভেম্বর শুরু করেন, সেই ৬ নভেম্বর দেন নিজের বিদায়ের ঘোষণা।
১৩ যুগে যেন টেষ্ট ইতিহাসে লিখে যান নিজের নাম।
ইডেন গার্ডেন্সের অভিষেকের ম্যাচে দুই ইনিংসে তুলে নেন ৯ উইকেট, শুরুর টেষ্টেই পান ফাইভার। এরপরের বছর ইংল্যান্ড সিরিজে বজায় রাখেন সাফল্য৷ অষ্ট্রেলিয়া সিরিজে এরপর তুলে নেন ১৫ উইকেট। মাত্র ২৯ টেষ্ট খেলে করেন শত উইকেট নেওয়ার কীর্তি।
সর্বশেষ মোহম্মদ সামি টেষ্ট ক্রিকেটে মাঠে নামেন ২০২৩ সালে টেষ্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। তবে সেই ফাইনাল হারের পর আর সাদা পোশাকে ডাক আসেনি তার।
এর মাঝে ২০২৫ সালে ডাক পান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির স্কোয়াডে। তবে এরপর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে শামি।
ভারতের হয় সামি খেলেছেন মোট ৬৪ ম্যাচ। এই ৬৪ ম্যাচে মাত্র ২৭ গড়ে শিকার করেন মোট ২২৯ উইকেট।
ভারতের ইতিহাসে পেসারদের মাঝে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় তার নাম আছে ছয় নাম্বারে। দলের প্রয়োজনে শামি সবসময় ছিলেন অগ্রগামী।
সুইং ও সিম দুইদিকেই পারদর্শী ছিলেন শামি। নতুন বল সুইং আদায় করতে পারতেন, আবার হিট দ্যা ডেকে বল করেও বাউন্স ও ঘুর্ণিতে পরাস্ত করতে পারতেন ব্যাটসম্যানদের।
বিদায় বেলায় হার্শা ভোগলে যেন উল্লেখ করলেন এটার কথাই। নতুন ও পুরোনো দুই বলেই সামি ছিলেন সমান কার্যকর, ভারতকে টেষ্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে নিতে রাখেন বড় ভুমিকা।
অথচ সেই ৩ বছরে জাতীয় দলে টেষ্টে ডাক আসেনি সামির। এই সময় ঘরোয়া আসরে ১৩ ম্যাচে ৫৭ উইকেট নেন মোহম্মদ সামি।
বিশেষ করে ২০২৫-২৬ সালে রঞ্জিতে নেন ৩৭ উইকেট। দিল্লি ও গুজরাটের মত দলের বিপক্ষে করেন পারফর্ম। তবে এরপরও দলে আসেনি ডাক। শেষ পর্যন্ত অভিমান নিয়েই বোধহয় ছাড়লেন টেষ্ট ফরম্যাটে, সাদা পোশাকে ভারতীয় দলে শামি আজ অতীত।
ভারতের এই মুসলিম ক্রিকেটারকে অবশ্য বরাবরই অবমুল্যয়ন করা হয়েছে। তবে ২০১৯ বিশ্বকাপে ইঞ্জুরি থেকে ফিরে এসে তার পারফর্মেঞ্চ ভুলেনি ভক্তরা।
ভারতের বহু ইতিহাস রচনায় ছিল শামির ভুমিকা। কিন্ত অন্যদের মত স্পটলাইট পাননি, উলটো দল থেকে আগেই বাদ দেওয়া হত তাকে। শেষবেলায় তাই শামির বিদায় ভক্তদের কাছে স্মৃতির হয়েই থাকবে।




