ইংল্যান্ডের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ব্যাটে-বলে ব্যর্থ টাইগাররা। আজ কিউইদের বিপক্ষে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে সাকিববাহিনী। অপরদিকে আসরে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচেই দাপুটে জয় তুলে নিল নিউজিল্যান্ড।
আজ শুক্রবার চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরাম স্টেডিয়ামে খেলতে নামে দুদল। বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটায় ম্যাচটি শুরু হয়। যেখানে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪৫ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ও ৪৩ বল বাকি থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।
যদিও ২৪৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় কিউইরা। দলীয় তৃতীয় ওভারে নিউজিল্যান্ড ওপেনার রাচীন রাবীন্দ্রকে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের ক্যাচে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান।
তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলে কিউইরা। অবশেষে জুটি ভেঙেছেন সাকিব আল হাসান। ২১তম ওভারে ডেভন কনওয়েকে ব্যক্তিগত ৪৫ রানে এলবির ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে কনওয়ে-কেন উইলিয়ামসন ৮০ রান তুলেছিলেন।
৭ মাস পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেও দাপট দেখান নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ড্যারেল মিচেলের সঙ্গে ১০৯ বলে ১০৮ রানের দারুণ পার্টনারশিপ গড়েন। ফেরার ম্যাচে হয়তো সেঞ্চুরিও পাওয়া হতো তার। কিন্তু আঙুলের চোটে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন। এ সময় তিনি ১০৭ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ৭৮ রান করেন।
বাংলাদেশ বোলারদেরকে হতাশ করেন আরেক ব্যাটার মিচেলও। এই ডানহাতি ৬৭ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ঝড়ো ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন গ্লেন ফিলিপস।
এর আগে টসে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই ফেরেন লিটন। ট্রেন্ট বোল্টের করা বলে লিটনের ক্যাচ ধরেন ম্যাট হেনরি। দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ হাসান তামিম ও তিনে নামা মেহেদী হাসান মিরাজ আশা দেখালেও বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি। ৪০ রানে দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে ফেরেন তানজিদ। লকি ফার্গুসনের গতি বুঝতে না পেরে ডেভন কনওয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দেন এ ওপেনার।
এরপর ৫৬ রানে ঘটে আসল বিপর্যয়। পরপর দুই ওভারে ফেরেন মিরাজ ও নাজমুল শান্ত। ফার্গুসনের করা ১২তম ওভারের চতুর্থ বলে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন মিরাজ। আর ১৩তম ওভারের প্রথম বলে গ্লেন ফিলিপসের বলে সেই কনওয়েকে ক্যাচ দেন শান্ত।
ব্যাটে ঝড় তোলার আভাস দিয়ে আউট হয়েছেন সাকিব আল হাসান। ২৯তম ওভারে রাচীন রাবীন্দ্রর বলে একটি ছক্কা ও চার হাঁকান। পরের ওভারে লকি ফার্গুসনের চতুর্থ বলে ছক্কা মারেন। তবে পরের বলে ফের তুলে মারতে গিয়ে উইকেটরক্ষক টম ল্যাথামের কাছে ক্যাচ দেন তিনি। ৫১ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪০ রান করেন সাকিব। পঞ্চম উইকেটে সাকিব-মুশফিক ৯৬ রানের জুটি গড়েছিলেন।
দুই ওভারের ব্যবধানে আউট হন মুশফিকুর রহিম ও তাওহীদ হৃদয়। দারুণ ব্যাট করা মুশফিক ৩৬তম ওভারে ম্যাট হেনরির করা পঞ্চম বলে বোল্ড হন। ৭৫ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৬ রান করেন তিনি। দুই ওভার পরে ট্রেন্ট বোল্টের নাকল বলে বুঝতে না পেরে শটে মিচেল স্যান্টনারের হাতে ক্যাচ দেন হৃদয় (১৩)।
তাসকিন আহমেদ ১৭ রান করে স্যান্টনারের শিকার হন। মোস্তাফিজুর রহমানকে তুলে নেন হেনরি। তবে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনি শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে ২টি চার ও সমান ছক্কায় ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন।
কিউই বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট পান লকি ফার্গুসন। এছাড়া ট্রেন্ট বোল্ট ও ম্যাট হেনরি ২টি করে উইকেট শিকার করেন।




