গোলরক্ষক, ডিফেন্ডার, মিডফিল্ডার কিংবা এট্যাকার। ব্রাজিল জাতীয় দলে খেলা বর্তমান খেলোয়াড়দের মাঝে প্রত্যেক বিভাগেই আছে ইপিএলে খেলা খেলোয়াড়। এমনকি ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল, আর্সেনালের মত শীর্ষ দলে খেলে থাকেন অনেক ব্রাজিলিয়ান। ইপিএলে যেন ব্রাজিলিয়ানদের তারকা হাট। তাদের মধ্য থেকে সেরা দশ তারকা ব্রাজিলিয়ান খোজা যেন সেরাদের ভিতর সেরাদের খোজা।
ব্রাজিল জাতীয় দলের দুই গোলরক্ষই খেলেন ইপিএলে। লিভারপুলে খেলেন এলিসন বেকার, ম্যানচেস্টার সিটিতে এডারসন। এই দুইজনই ইপিএলের অন্যতম সেরা দুই গোলরক্ষক। ব্যাক্তিগত ও দলগত, দুই অর্জনেই সেরা এই দুইজন। যে কারণে এই দুইজনের উপর নির্ভর করে ইপিএলের শীর্ষ দুই ক্লাব। গত সিজনের আগের সিজনে ম্যানসিটিকে ট্রেবল জিতাতে বড় ভুমিকা ছিল এডারসনের। আর এলিসন তো নিয়মিত লিভারপুলের দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, তাদের সাফল্যে তার আছে বড় ভুমিকা।
গোলরক্ষক পজিশনে যদি এই দুইজন থাকেন, তবে ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মেঘালাসকে কিভাবে বাদ দিবেন। আর্সেনালের জার্সিতে সালিবার সাথে করেছেন প্রিমিয়ার লীগের অন্যতম সেরা সেন্টার জুটি। যারা গত সিজনে সবচেয়ে কম গোল হজম করেছে লীগে। এছাড়া আর্সেনাল জার্সিতে টানা সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলেছেন সালিবা। বর্তমানে ইপিএলের সেরা সেন্টার ব্যাকদের একজন তিনি।

গোলরক্ষক ও ডিফেন্সে যত তারকা, তার থেকে এক মিডফিল্ডেই আছে বেশি তারকা। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের ব্রুনো গিমারেজ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ক্যাসিমিরো, ওয়েস্ট হ্যামের লুকাস পাকুয়েতার মত খেলোয়াড় । গত সিজনে পরিসং্খ্যাবে পাকুয়েতা ও গিমারেজ ছিলেন সেরাদের সেরা। ডুয়েলস জয়, ট্যাকেল, চাঞ্চ ক্রিয়েট, গোল করা, এসিস্ট, পাসিং সব জায়গায় সেরাদের কাতারে ছিলেন তারা। গত সিজন ভালো যায়নি নিউক্যাসেলের, তবে দলের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন ব্রুনো গিমারেজ। আর পাকুয়েতা একাই যেন রাইসের অবর্তমানে টেনে নিয়ে গেছেন ওয়েস্ট হ্যামকে। এই দুইজনকেই পেতেই গত সিজনে ১০০ মিলিয়নের মত বড় অঙ্কের প্রস্তাব করে ইংলিশ আরেক ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। আর গত সিজনের শেষে এসে আবারো চিরচেনা ফর্মে ফিরছেন ক্যাসিমিরো। খুব শীঘ্রি আবারো জাতীয় ফলে ফিরবেন এই ট্যাঙ্ক।
আক্রমণে এই সিজনে জিরোনা থেকে ম্যানসিটেতে এসেছেন স্যাভিও।গত সিজনে জিরোনার রুপকথার নায়ক স্যাভিও। গত সিজনে লা লীগায় করেন সর্বোচ্চ ড্রিবলি। এছাড়া জিরোনার জার্সিতে করেন ২১ গোল এসিস্ট। এরপর ব্রাজিল জার্সিতেও করেন ১ গোল ও ১ এসিস্ট। আলভারেজের বদলে দলে জায়গা পাওয়া এই তারকার দিকেও থাকবে বাড়তি নজর।

নজর এড়াবেন না আর্সেনালের জেসুস ও মার্টিনেল্লি। মার্টিনেল্লি আর্সেনালের উইঙের অন্যতম নাম, গত কয়েক সিজন ধরেই করছেন ধারাবাহিক পারফর্মেঞ্চ। ২৩ বছর বয়সী এই তারকা গত সিজনে করেছেন ১৩ গোল এসিস্ট, এর আগে সিজনে করেছেন ২১ গোল এসিস্ট। এই সিজনেও তার উপর যে বাড়তি প্রত্যাশা থাকবে তা এককথায় বলাই যায়। আর এর সাথে অনেকদিনের ইঞ্জুরি থেকে দলে ফিরেছেন জেসুস। এই সিজনে দিয়েছেন ভয়ঙ্কর হয়ে ফেরার প্রত্যাশা।
এদের সাথে প্রত্যাবর্তন করা রিচার্লিসনকে ভুললে চলবেনা। গত সিজনের শুরুতে ভালো না করলেও সিজন শেষ করেছেন ১২ গোল ও ৪ এসিস্ট দিয়ে। এই সিজনে আবারো সেই রিচাকেই দেখার প্রত্যাশা সবার। সব মিলিয়ে ব্রাজিলের ইপিএলের সেরা দশ খেলোয়াড় হিসেবে এদের দিকেই দর্শকদের থাকবে আলাদা চোখ।




