এক মৌসুম আগে যখন বার্সেলোনায় এসেছিলেন সবাই বলেছিলো রাফিনহাকে অবহেলা করছে বার্সেলোনা। গুঞ্জন উঠেছিলো বিক্রি করারও।তবে সেই রাফিনহাই এখন বার্সেলোনার অন্যতম মুল ভরসা।হেনসি ফ্লিকের খুনে ফরমেশনের অন্যতম হাতিয়ার তিনি।গত ৪ ম্যাচে রাফিনহা করেছেন ২ এসিস্ট ৩ গোল! আগের ৩ ম্যাচে তার ২ টি এসিস্ট থাকলেও,গতকাল তুলে নিয়েছেন তার ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাট্রিক।যার ফলে প্রতিপক্ষকে গুনে গুনে ৭ গোল দিয়েছে হেনসি ফ্লিকের দল।
খেলার দশম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে রাফিনিয়ার জোরাল নিচু শট ভাইয়াদলিদ গোলরক্ষক ঠেকানোর পর কাছ থেকে জালে পাঠান ওলমো, কিন্তু অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান।
২০ থেকে ২৪- এই চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে ম্যাচে চালকের আসনে বসে যায় বার্সেলোনা।

দুটি গোলেরই উৎস মাঝমাঠ। পাউ কুবার্সির উঁচু করে বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন রাফিনিয়া। সঙ্গে লেগে থাকা প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
প্রায় একইরকমভাবে ইয়ামালের উঁচু করে বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে দ্বিতীয় গোলটি করেন লেভানদোভস্কি। চলতি আসরে চার ম্যাচে পোলিশ তারকার গোল হলো ৪টি।
৪১তম মিনিটে ব্যবধান বাড়তে পারত আরও, কিন্তু ওলমোর আরেকটি শট পোস্টে লাগে।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে স্কোরলাইন ৩-০ করেন কুন্দে। কর্নার ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় সফরকারীরা। বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের শটে ওপরের কোণা দিয়ে বল জালে পাঠান ফরাসি ডিফেন্ডার।
এই অর্ধে গোলের জন্য ১৪টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখে বার্সেলোনা। বিপরীতে ভাইয়াদলিদের দুই শটের একটি লক্ষ্যে ছিল, যা অনায়াসে ঠেকান মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগান।

৫৫তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হারান ওলমো। বক্সে ইয়ামাল নিজে শট না নিয়ে বল দেন ওলমোকে, কিন্তু বলে পা-ই ছোঁয়াতে পারেননি তিনি। পরের মিনিটে ওয়ান-অন-ওয়ানে রাফিনিয়ার শট ফেরান গোলরক্ষক। একটু পর দুরূহ কোণ থেকে লেভানদোভস্কির শট পোস্টের বাইরের দিকে লাগে।
৬৪তম মিনিটে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান রাফিনিয়া। বক্সে জটলার ভেতর থেকে লেভানদোভস্কির পা ছুঁয়ে আসা বল কাছ থেকে জালে পাঠান তিনি।
৭২তম মিনিটে তিনি পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। পাল্টা আক্রমণে নিজেদের অর্ধ থেকে বল ধরে এগিয়ে গিয়ে পাস দেন ইয়ামাল। বক্সে ঢুকে প্রথম স্পর্শে বা পায়ের শটে গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন রাফিনিয়া।
ক্যারিয়ারে এই প্রথম হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেলেন ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
৮২তম মিনিটে জালের দেখা পান ওলমো। বক্সের সামনে প্রতিপক্ষের তিন খেলোয়াড়ের মাঝ দিয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন তিনি, এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল পাঠান জালে।
তিন মিনিট পর ভাইয়াদলিদের জালে সপ্তম পেরেক ঠুকে দেন দ্বিতীয়ার্ধে লেভানদোভস্কির বদলি নামা তরেস। বাম দিক থেকে রাফিনিয়ার পাসে ছুটে গিয়ে বক্সে প্রথম স্পর্শে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
এই আসরে ভয়ঙ্কর স্কোয়াড সাজানো রিয়াল মাদ্রিদ সবাইকে ওপেন চ্যালেঞ্জ জানায় এমবাপ্পে-বেলিংহাম ভিনি রদ্রিগোদের নিয়ে।তবে হয় উলটো! এখন পর্যন্ত ৩ ম্যাচের ২ টিতেই ড্র করেছে তারা।আজ আবারো মাঠে নামবে দলটি। অন্যদিকে ভাঙাচোরা দলটি খেলোয়াড় কিনলেও রেজিষ্ট্রেশন করাতে পারছেনা ওয়াইজ গ্যাপের কারনে।তবুও মাত্র ১৮ জনের সেই স্কোয়াড নিয়েই টানা ৪ ম্যাচে চার জয় তুলে টেবিলের শীর্ষে টিম বার্সা!




