চেহারার জন্য অনেকে তাকে মজা করে নাম দিয়েছেন গরীবের রুডিগার। অনেকের কাছেই অচেনা ব্যাক্তি তিনি। ব্রাজিলের মিডফিল্ডে এমন একজনকে দেখে হতাশ হয়েছিলেন অনেকে। হতাশার কারণ অবশ্য অযৌক্তিক নয়। ব্রাজিল দলের রাডারে আছেন একাধিক মিডফিল্ডার। এদের অনেকে ক্লাবে পরীক্ষিত মুখ। ইউরোপিয়ান লীগে খেলা এইসব মিডফিল্ডাররা পরিচিত নাম দর্শকদের। তবে এদের ভীরে অচেনা গার্সনকে দেখে তাই খুশি হতে পারেননি দর্শকরা।
তবে গার্সন দেখিয়েছেন, দর্শনদারি নয়, গুণ দিয়েই সবার নজর কাড়তে এসেছেন তিনি। পেরুর বিপক্ষে দিয়েছেন সেই গুণের বহিপ্রকাশ। একাই নিয়ন্ত্রন করেছেন মিডফিল্ড। ব্রুনো গিমারেজের সাথে যেভাবে খেলেছেন, মনে হচ্ছিল যেন ইউরোপের কোন বড় দলের মিডফিল্ড এসেছে ব্রাজিলে।
আরও পড়ুনঃ- অসাধারণ আলমাদা, সুযোগ পেয়ে দিলেন যোগ্য প্রতিদান
আগের ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন পাকুয়েতা ও আন্দ্রে। পাকুয়েতা এ ম্যাচে কার্ড জটিলতায় ছিলেন না শুরুর একাদশে। তার বদলে সুযোগ পান ব্রুনো গিমারেজ আর আন্দ্রের বদলে সুযোগ আসে গার্সনের। সেখানেই সুযোগ পেয়ে নিজের পুরোটা ঢেলে দেন গার্সন। বিশেষ করে তার পাসিং, ড্রিবলিং, বল কন্ট্রোলিং এর সাথে সামঞ্জস্য গতি, সবকিছুই ব্রাজিলকে দেয় স্বস্তি।
শেষ ম্যাচে গার্সন পাস দিয়েছেন ৯১ ভাগ হারে। এর সাথে ১ বার চাঞ্চ ক্রিয়েট ও ১ টি শট করেন। ৬ বার পাস দেন ফাইনাল থার্ডে। দুইবার দেন একুরেট লং বলস। ২ বার ট্যাকেলস জয় করেন। তবে সবচেয়ে অবাক করার বিষয় ছিল তার ডুয়েলস। এদিন একটা ডুয়েলসও হারেননি গার্সন। মোট ৮ টি এর ৮ টি ডুয়েলস জয় করেন তিনি। আর তাতে এক জিনিস স্পষ্ট, ফিজিক্যালিটি ও বল দখলের লড়াইয়ে ব্রাজিলের অন্য অনেকের থেকে বেশ এগিয়ে গার্সন।
এর আগের ম্যাচে মাত্র ৪৫ মিনিট সুযোগ পেয়েও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। দিয়েছিলেন ৯৩ ভাগ হারে পাস। সে ম্যাচেও ডুয়েলসে ছিলেন দারুণ। জিতেন প্রায় ৬০ ভাগের বেশি ডুয়েলস৷
এই সিজনে ব্রাজিলিয়ান লীগে নিজেকে করেছেন প্রমাণ। ফ্লেমেঙ্গোর হয়ে ২৭ ম্যাচে করেছেন ৩ গোল ও ৪ এসিস্ট। পাস দিয়েছেন ৮৭ ভাগ হারে। ৩৩ বার লং বলের সাথে চাঞ্চ ক্রিয়েট করেছেন ৩২ বার। এছাড়া ২৪ বার ড্রিবলিং এবং ৩৪ বার ট্যাকেলস গড়েন। মোট ১৫৫ বার ডুয়েলস জয় করেন, গড়ে ম্যাচ প্রতি প্রায় ৬ থেকে ৭ টি ডুয়েলস জয় করেন তিনি। এমন একজনকেই তো দীর্ঘদিন ধরে খুজছে ব্রাজিল দল।
গার্সন নিজেকে প্রমাণ করেছেন, এবার চাওয়া ধারাবাহিকতা। সেই ধারাবাহিকতা গার্সন ও ব্রাজিলকে নিয়ে যেতে পারে অনেকদুরে।




