টানা দুই ম্যাচে দুই জয়, ফুটবলের শক্তিশালী দল ব্রাজিলের জন্যই এটা এখন হয়ে গেছে বিরল এক চিত্রে। সেখানে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে শেষ দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে ব্রাজিল দল। এই দুই জয় করেছে অনেক কিছুর পরিবর্তন। একদিকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ধুকতে থাকা ব্রাজিলের ছিল বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার শঙ্কা, সে শঙ্কা অনেকটাই করেছে দূর। অপরদিকে অনেকদিন পর দেখা গিয়েছে পুরোনো ব্রাজিল দল-কে। বদলে যাওয়া ব্রাজিল দলে মুলত পরিবর্তনে অবদান রেখেছেন তিন ফুটবলার। তাদের হাত ধরেই ব্রাজিলে এসেছে সাফল্য।
তাদের একজন মোনাকোর ভ্যান্ডারসন। ক্লাবে পারফর্মেঞ্চের জন্য অনেকের ছিল ফ্যান ফেভারিট। ডানদিকে দানিলো নিজেকে মেলে ধরতে পারছিলেন না। সেখানেই ভ্যান্ডারসনকে সুযোগ দেন ডরিভাল। সুযোগ পেয়েই দুর্দান্ত পারফর্মেঞ্চ ভ্যান্ডারসনের। আক্রমণ থেকে রক্ষণ, দুই জায়গায়ই ছিলেন দারুণ। পাসিং, লং বল, ডুয়েলস সবদিকেই কেড়েছেন নজর। আর তাতে বেড়েছিল খেলার গতি, ব্রাজিলের আক্রমণ থেকে এসেছে ফল। নিসন্দেহে আগামী দিনেও ডানদিকে কোচের আস্থার নাম হতে পারেন এই রাইট ব্যাক।
আরও পড়ুনঃ- ইনজুরি থেকে মুক্ত হয়ে আবারো মাঠে ফিরছেন নেইমার
ফুলব্যাকে সমস্যা দূর করেন ভ্যান্ডারসন, মিডফিল্ডের অবতার হয়ে আসেন গার্সন। এই মিড অবশ্য ভক্তদের পছন্দের কেউ ছিলেন না। বরং কিছু ক্ষেত্রে তাকে নিয়ে হয় উপহাস। তবে সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণ করেন গার্সন। চিলির বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্থে নেমে গতি, বল কন্ট্রোলিংএ নিজের জাদু দেখান। সে ম্যাচে গার্সন বদলি নামার পর জয় পায় ব্রাজিল দল। তবে এরপরের ম্যাচে একাদশে নেমেই নিজের পুরো ঝলক দেখান গার্সন। সেদিন মিডফিল্ডে ডমিন্যান্ট করেন তিনি। অনেকদিন পর সেলেসাওদের মিডের এই চিত্র মুগ্ধ করে দর্শকদের।
মুগ্ধ করে লুইস হেনরিকের পারফর্মেঞ্চ। বোটাফিগোর এই উইঙ্গারও ছিলেন অচেনা এক নাম। তবে দুই ম্যাচ শেষে এখন ভক্তদের নয়নের মণি তিনি। চিলির বিপক্ষে বদলি নেমে অসাধারণ এক জয়সুচক গোল করেন। এরপরের ম্যাচেও বদলি নেমে করেন এক গোল ও এক এসিস্ট। গতি, ড্রিবলিং, গোলের যে ঝলক দেখিয়েছেন, তাতে মনে করিয়ে দিচ্ছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়ারকেই। ভিনি জাতীয় দলে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননা, ক্লাবে ভিনির খেলাটাই যেন খেললেন হেনরিক।
এই তিনে যে ব্রাজিল বদলে গেছে, তাতে নেই সন্দেহ। তবে দরকার এখন ধারাবাহিকতা। এই বদলে যাওয়া পারফর্মেঞ্চ যদি বজায় রাখতে পারে ব্রাজিল, আগামী দিনে তবে আবারো সেলেসাওদের নিয়ে আশা করতেই পারে ভক্তরা।




