অধিনায়ক মেহেদী মিরাজ বোলিংএ আনলেন উইলিয়াম বসিস্তকে। অজি এই পার্ট টাইম স্পিনারের বলে এদিন ব্যাটে বলে টাইমিং করতে হিমশিম খাচ্ছেন আফগান অলরাউন্ডার ফারমানুল্লাহ সাফি। শেষ পর্যন্ত অস্থির করতে করতে যখন আউট হন, ২০ বলে করেন মাত্র ৭ রান। ওপেনিংএ নেমে লিটন দাস রানে বলে করেন ১০ রান। আর হার্ডহিটার সোহানের ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ৩ রান
একদিকে যখন রান করতে দিশেহারা ঢাকার ব্যাটসম্যানরা। পিচের স্লো নেস, স্পিনারদের এক্সট্রা টার্ন ও বাউন্সে খাবি খাওয়ার মত অবস্থা, তখন ছক্কার উপর ডিল করছিলেন তানজিদ তামিম। চার ছাড়াই ছক্কা হাকাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলেন এই ব্যাটসম্যান। একের পর এক ওভারবাউন্ডারিতে বল মাঠছাড়া করছিলেন। শেষ পর্যন্ত অর্ধশতক তুলে নেন মাত্র ২৭ বলে, ততক্ষণে হাকান মোট ৭ টি বিশাল ছয়।
ইনিংসে ১ চার এসেছে, এসেছে ৮ ছয়। যার ৭ টি এসেছে তানজিদ তামিমের ব্যাটে। কখনও সুইপ, কখনও লফটেড ড্রাইভ, কখনও দাড়িয়ে হাকিয়েছেন শট। সব শটের একটাই গন্তব্য, ছয়। সেটাও জোড় করে মাসেল পাওয়ার ব্যাবহার করে নয়, পিউর টাইমিং করে। কমেন্ট্রি থেকেও ভেসে আসছিল তার প্রশংসা, তার টাইমিং নিয়ে ছিল আলাদা স্ততি।
শেষ পর্যন্ত তানজিদ ফিরেন ৫৮ রানে। তবে টিপিকাল মিরপুর পিচে তার ১৫৭ স্ট্রাইক রেট প্রমাণ করে, ব্যাট হাতে কতটা বিদ্বংসী তানজিদ। শেষ পর্যন্ত তানজিদের এই ইনিংস হতে পারে খুলনার পরের রাউন্ডে যাওয়ার বাধা। অন্যান্য ব্যাটসম্যানরা তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়লেও তানজিদ দেখিয়েছেন, যোগ্যতা থাকলে সব জায়গায় ভালো স্ট্রাইক রেটে রান করা যায়।
এই বিপিএলে এ নিয়ে চার অর্ধশতক জুনিয়ার তামিমের, রাজশাহীর বিপক্ষে করেছেন এক শতকও৷ তানজিদ তামিম বর্তমান বিপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ছক্কা হাকানোর তালিকায় আছেন উপরের দিকেই। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মঞ্চে এই তানজিদের দিকেই চেয়ে থাকবেন ভক্তরা। কেননা পাকিস্তানের মাটিতে হাই স্কোরিং ম্যাচ হবার সম্ভাবনাই থাকবে বেশি। সেখানে তানজিদ তামিমের পক্ষে আছে ভালো বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে দ্রুত গতিতে রান তোলার সক্ষমতা৷ সেখানে যদি নিজের সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারেন তামিম, বিপিএলের মত যদি পারফর্ম করতে পারেন সেখানে, তবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও দারুণ কিছু করতে পারে বাংলাদেশ দল।




