মাঠে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, কিন্ত আচরণে যেন সভ্যতার ছিটেফোটা নেই বিন্দুমাত্র।
সিনিয়ার পর্যায়ের খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষকে বানর বলে অভিহিত করে, যে কারণে তাদের গুণতে হয় বড়সড় নিষেধাজ্ঞা।
আবার জুনিয়ার পর্যায়ে ম্যাচ হারার পর খেলোয়াড়রা করেন অশ্লীল মন্তব্য, হুমকি দেন পিছন থেকে আক্রমণ করার। এবার তাদের সাথে তাল মেলালেন ভক্তরা। খেলোয়াড়দের ছাপিয়ে বর্ণবাদী আচরণ করে গ্রেপ্তার আর্জেন্টাইন ভক্ত
ঘটনার উৎপত্তি কোপা লিপার্তোদেসের ম্যাচে। যেখানে গ্রুপ ডি এর ম্যাচে সেলেসাও ক্লাব ক্রুজেও এর বিপক্ষে মাঠে নামে আর্জেন্টাইন ক্লাব বোকা জুনিয়ার্স।
আর সেখানেই বর্ণবাদী আচরণ করেন বোকার ভক্তরা। এমনকি ব্রাজিলে এসে তাদের মাঠে পর্যন্ত এমন আচরণ করতে ছাড়লেন না তারা।
ব্রাজিলের মাঠ ক্রুজেওর এস্তাদিও গভার্নাডার মেঘালাসে মাঠে নামে ক্রুজেও ও বোকা জুনিয়ার্স। আর সেখানেই ক্রুজেও ভক্তদের উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদমুলক আচরণ করতে থাকে বোকা জুনিয়ার্সের ভক্তরা।
এমনকি আচরণ এতটাই তীব্র হয় যেখানে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় ব্রাজিলের মিলিটারি। সেখানে বোকার জার্সি পড়া এক খেলোয়াড়কে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হন তারা। শেষ পর্যন্ত বর্ণবাদ ঠেকাতে তারা নেন পদক্ষেপ।
অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার বর্ণবাদমুলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে আর্জেন্টিনার ক্লাব বোকা জুনিয়ার্সের বিপক্ষে। এমনকি এই কারণে কনমেবল থেকে তাদেরকে সতর্কও করা হয়। এর সাথে ১ লাখ ডলার জরিমাণাও করা হয় তাদেরকে।
এমনকি স্টেডিয়ামও ব্যান রাখা হয় বোকা জুনিয়ার্সের, দর্শক শুন্য মাঠে খেলতে দেওয়া।
তবে তাতেও স্বভাব বদলায়নি এই আর্জেন্টাইন ক্লাবের ভক্তদের। এবার তো রাইভাল দেশে এসে তাদের ফ্যানদের সামনে করলো বর্ণবাদমুলক আচরণ।
আর সেখানে তাই শক্ত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় ব্রাজিল। একদম হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয় আর্জেন্টিনার বর্ণবাদী আচরণ করা ভক্তকে।
এতকিছু করেও অবশ্য কাজের কাজটা করতে পারলোনা বোকা জুনিয়ার্স। যাদের জন্য দর্শকরা এতকিছু করলো, তারাই হেরে গেলো ১-০ গোলে।
সাথে আবার জুটেছে এক লাল কার্ডও। এডাম বাইরেরোর লাল কার্ডের পর ভিলারিয়ালের গোলে হেরে যায় বোকা জুনিয়ার্স।
একইসাথে যেন দুই দিকেই শিক্ষা পেলো আর্জেন্টিনার ক্লাবটি। তবে তাতেও যে আগামী দিনে আচরণে ভালো হবে কিনা এই দেশের মানুষ, সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে।




