দুর্বার রাজশাহীর পকেট থেকে টাকা খসাতে ক্রিকেটাররা অনসনে বসবে? হ্যাঁ বসলেও বসতে পারে। দুর্বার রাজশাহী সেই পথ অন্তত খোলা রেখেছে। নামে দুর্বার হলেও পেমেন্ট ক্লিয়ারে তারা যথেষ্ট দুর্বল। তাদের পেমেন্ট ক্লিয়ার ইস্যূ নিয়ে যত কথা হয়েছে তা এতোক্ষণে বিশ্ব ক্রিকেট জেনে গেছে। আর এই জানানোর কাজটা করেছে দুর্বার রাজশাহী। বিপিএলের ভাবমূর্তিও নষ্ট করেছে এই দলটি। মাঠের পারফরম্যান্স যা হয়েছে তার ঠিক উল্টোটা পেমেন্ট ক্লিয়ারিংয়ে। দলটা নিজেদের মানসম্মান যা ডোবানোর ডুবিয়েছে বাকি রাখেনি বিপিএল এর মান ইজ্জত ডুবাতে। প্লেয়ারদের ডেকে এনে পেমেন্ট না করে লাপাত্তা হওয়ার বিষয় জানাজানি হয়ে গেছে। এই যদি হয় বিপিএল এর অবস্থা তাহলে হয়তো আগামী আসর গুলোতে বিপিএলে বিদেশি প্লেয়ার খেলতে আসতে চাইবেন না, আসলেও জুড়ে দিবেন বিশেষ শর্ত। অন্তত টাকা আগে তারপরে খেলা, এমন শর্ত জুড়ে দিবে।
জানা গেছে বিদেশি প্লেয়ার হারিস, রায়ান বার্লরা অবস্থান করছেন হোটেলে, কল করেও পাচ্ছেন না মালিক পক্ষকে। মালিক পক্ষের কেউ কল ধরছেন না। এমতাবস্থায় হোটেলে বসেই সময় কাটছে তাদের। এমনকি বাড়ি ফেরার টিকিটের ব্যবস্থাও করে দেয়নি দুর্বার রাজশাহী। অথচ গত কাল ক্রিড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন কেউ যদি রুলস এন্ড রেগুলেশনের বিরুদ্ধে যায় তাহলে এর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই কথা বলার ঠিক পরের দিন খবর আসলো হোটেলে রায়ান বার্ল মোহাম্মদ হারিস রা অপেক্ষা করছেন পেমেন্টের। কিন্তু কিসের পেমেন্ট কিসের এয়ার টিকিট একটা কল রিসিভ করার মতো কেউ নেই।
বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরম ভাবে ক্ষুন্ন করেছে দুর্বার রাজশাহী। নামের মতো পেমেন্টে ইস্যূতে দুর্বার হতে পারলেও হতো কিন্তু না তারা বাজে ইম্প্রেশন তৈরী করে চলে গিয়েছে। খেয়াল করলে দেখবেন ফেসবুক পেজ পর্যন্ত গায়েব হয়ে গিয়েছে। প্রতিবেদন লেখার সময়ে দুর্বার রাজশাহীর পেজ ফেসবুকের সার্চ অপশনে গিয়ে খুজে পাওয়া যায়নি। কারনটা নেহায়েত মামুলি নয়। প্লেয়ারদের পেমেন্ট না দেয়া, ডেইলি এলাউঞ্জ না দেয়া সহ বিদেশি ক্রিকেটারদের টিকিটের ব্যবস্থা না করতে পারার মতো ব্যর্থতাও এই দলটির কাধে বর্তায়। এরপরেও কি তার বিরুদ্ধে বিসিবি কোনো এ্যাকশনে যাবে না? হয়তো যাবে। সেই আশ্বাস দিয়েছিলেন গতকাল প্রেস কনফারেন্সে।
উপস্থিত ছিলেন ক্রিড়া উপদেষ্টা ও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির প্রধান নাজমুল আবেদিন ফাহিম। সব কিছু মিলিয়ে সুশৃঙ্খল এক বিপিএলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এক রাজশাহী ছিলো। যাদের কারনে বিসিবি পরেছে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। বিসিবিকে এমন বাজে পরিস্থিতির সম্মুখীন করার জন্য হলেও দলটির মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিৎ। দেখা যাক বিপিএল পরবর্তী সময়ে তা সম্ভব হয় কি না।




