ফিফার বিশ্বকাপ,ভাগ্য পেনাল্টির সামনে! এমন সময়ে আর্জেন্টিনার কোনো গোলকিপার ঢাল হয়ে দাড়াবেন,পেনাল্টি সেইভ দিবেন,এটিই যেন এখন পরিচিত এক দৃশ্য।
তবে এবার বিশ্বকাপটি ক্লাবের,আর গোলবারে এমিলিয়ানো নয়,ছিলেন অন্য একজন।
মেসির ছোটবেলার এই বন্ধু আজ একাই পয়েন্ট এনে দিয়েছেন মেসিদের।আল আহলির বিপক্ষে ৮ টা দুর্দান্ত সেইভ,এবংকি পেনাল্টি সেইভও দিয়েছেন তিনি!
তবে কে এই উস্তারী?
উস্তারি ২০০৫ সালে মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন।
এরপর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে খেলেছেন মেক্সিকোর পচুকা, চিলির অডাক্স ইতালিয়ানোসহ বেশ কয়েকটি ক্লাবে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন ফ্রি এজেন্ট হিসেবে। এখন পর্যন্ত তিনি ২২ ম্যাচে অংশ নিয়েছেন ক্লাবটির হয়ে।
ম্যাচ শেষে মায়ামির ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ বলেন, “আমরা ভাবিনি গোলরক্ষক এতগুলো সেভ করবে।
সে-ই ছিল প্রথমার্ধে ম্যাচের মোড় ঘোরানো খেলোয়াড়।”
ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই আল-আহলির আবু আলি প্রথম ভালো সুযোগ তৈরি করেন। কিন্তু বক্সে ঢুকে তিনি বিলম্বে শট নেন মায়ামি গোলরক্ষকের হাতে।
পরে জানা যায় অফসাইড ছিল সেটি। তিনি মিনিটের মাথায় আবারও মায়ামির রক্ষণে হানা।
তবে ইমাম আশুরের শট ঠেকাতে এগিয়ে এসে এবারও ঢাল বনে যান গোলরক্ষক উস্তারি। তাকে একা পেয়েও গোলবঞ্চিত আহলি।
১৫ মিনিটে ফ্রি-কিক পায় মায়ামি। কিন্তু ম্যাচের প্রথম উল্লেখযোগ্য শটটি মেসি বেশ বাইরে দিয়ে মারেন। এভাবে দুই দলই আক্রমণ শাণালেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল অনেকটাই আহলির কাছে।
৩২ মিনিটে এক ফাঁকা হেডার থেকেও অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক মায়ামিকে বাঁচিয়ে দেন।
ফলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই উভয় দল বিরতিতে যাওয়ার প্রস্তুতিতে ছিল। তবে নিজেদের বক্সে আহলি ফুটবলারকে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেয় মায়ামি।
স্পট কিকে ট্রেজেগুয়েট মায়ামি গোলরক্ষককে বিচলিত করতে পারেননি। বরং বল মেরেছেন তার হাতে।
দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটা গুছিয়ে নেয় মায়ামি। দারুণ লড়াইয়ে খেলা জমে ওঠে। মেসি তার কিছু ঝলক দেখান এই অর্ধে।
৬৪তম মিনিটে ফ্রি কিক থেকে তিনি গোল পাননি অল্পের জন্য। ৮৫তম মিনিটে আরেকবার গোলের কাছাকাছি যায় মায়ামি।
এবার মেসির ক্রস থেকে ফাফা পিকুঁর হেড ক্রসবার স্পর্শ করে চলে যায় বাইরে।
৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে নাটকীয় জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল মায়ামি।
এবার মেসির শটে বলে কোনোরকমে স্পর্শ করে বাইরে পাঠিয়ে দেন আল আহলির গোলকিপার এল শেনাওয়ি।
তাই পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই বিশ্বকাপ শুরু করলো মায়ামি।




