ছেলদের মত ক্রিকেটে উঠে আসা সহজ নয় এইদেশের মেয়েদের জন্য।
ছোটবেলায় পাড়া মহল্লার মত ক্রিকেটের ক্রেজ, বিকালে ব্যাট হাত ঝাপিয়ে পড়া, এলাকায় এলাকায় ব্যাট বলের লড়াই, এইসব মেয়েদের ক্রিকেটে ভাবাও স্বপ্নের মত।
বাংলার মারুফার সেইসব চ্যালেঞ্জ তো ছিলই, সাথে ছিল আরো বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেটার নাম দারিদ্রতা।
কৃষক বাবার বড় ফ্যামিলি, সংসার চালাতে খেতে হয় হিমশিম। উপায় না পেয়ে বাবার কৃষিকাজেই নেমে গেলেন মারুফা, করলেন তাকে সাহায্য। সেখান থেকে মারুফা এখন বিশ্বক্রিকেটে আলোচিত এক নাম।বিশেষ করে নারী ক্রিকেটে মারুফা বন্দনা চলছেই।
এর আগেও নিজের সুইং এর জন্য মারুফা প্রশংসিত হয়েছেন। তবে বিশ্বকাপে যেন আলাচিত নামের মাঝে একজন মারুফা।
তাকে সে আলোচনা এনেছে বিশ্বকাপের ম্যাচ। যেখানে তার সুইং অবাক করেছে বিশ্ববাসীকে।
সেদিন শুরুর অভারে মারুফার সুইংএ প্যাভিলিয়ানের পথ ধরেন পাকিস্তানের ওপেনার সিদরা আমিন ও অমানিমা সোহেল।
পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় দুই নামের উইকেট পেয়ে নজর কাড়েন, তার চেয়েও নজর আসে তার সুইং দেখে। পঞ্চম স্টাম্পে বল রেখে যেভাবে লেগ স্টেম্পে সুইংএ আউট করলেন, তাতে অবাক হয়েছে সবাই। ছেলেদের ক্রিকেটে মেলেনা এমন সুইং, সেটাও মন্তব্য করেন অনেকে। এক সুইং এর জন্য সেদিন ম্যাচসেরার খেতাব পান মারুফা। এছাড়া তার সুইং এর সাথে অষ্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত পেসার মিচেল স্টার্কের তুলনা দেয় আইসিসি, সেটাও নিজেদের পেজ থেকে।
এরপর ইংলিশ অধিনায়কও কথা বলেন মারুফাকে নিয়ে। সেখানে মারুফাকে সামলে খেলার কথা বলেন অডিয়াইতে দ্বিতীয় র্যাংক ধারী দলটির অধিনায়ক।
তবে প্রস্ততি নিয়েও মারুফাকে সামলাতে পারলোনা ইংলিশ দল। আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১০ উইকেটে হারানো ইংল্যান্ডের দুই ওপেনারকে এদিন ফেরান মারুফা।
আগের ম্যাচে দুই ব্যাটার হন বোল্ড, এবার মারুফার সুইংএ লেগ বিফোরে পড়েন দুই ইংলিশ ব্যাটার বেউমোন্ট ও অমি জোনস।
বেউমোন্ট ১৩ রান করলেও ১ রানে ফিরতে হয় জোনসকে। আর তাতে শুরুতে চাপের মুখে পড়ে ইংলিশ দল।
এর আগে স্মৃতি মন্দনার মত ব্যাটসম্যানের প্রশংসা পেয়েছেন মারুফা। এবার আইসিসি আসরে পাচ্ছেন ভুয়সী প্রশংসা।
নিজেকে ধরে রাখতে পারলে মারুফার সামনে একদিকে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। আবার মারুফার গল্প যে নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য প্রভাব পড়বে তাতে নেই সন্দেহ। কৃষক পরিবার থেকে নারী ক্রিকেটে আসা, নিসন্দেহে অনুপ্রেরণা দেবে অনেক তরুণীকে। ।




